২ দিনে ধ্বংস ৩০ কন্টেনার খাবার

২ দিনে ধ্বংস ৩০ কন্টেনার খাবার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া নষ্ট ফল, আদা-রসুন ও মাছ ধ্বংস করার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার নগরের পতেঙ্গা এলাকার বিজয়নগরের বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রতিবাদে সকালে বিমানবন্দর সড়কের পাশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। তাঁদের বাধার মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা পণ্য ধ্বংস করার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে বৈঠকের পর আবার কার্যক্রম শুরু করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে ১৩ কনটেইনার নষ্ট পণ্য ধ্বংস করা হয়। এ নিয়ে মোট ৩০ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে আরও প্রায় ৫৯ কনটেইনার নষ্ট পণ্য। পচা খাবারের দূর্গন্ধে ভরে উঠেছে আশে পাশের পরিবেশ ও এলাকাগুলো। কাস্টমস সূত্র জানায়, নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব পণ্য আমদানি করা হয় ২০১০ সাল থেকে এ বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। পণ্য আমদানির পর ব্যবসায়ীরা নানা কারণে তা খালাস না নেওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিক্রির জন্য নিলামে তুলে। কিন্তু নিলামেও বিক্রি হয়নি। পরে নষ্ট হয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় তা ধ্বংস করা হয়নি। অবশেষে উদ্যোগ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর জানায়, ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস না নিলে আমদানির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। যেমন আমদানি-প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বন্দরে আসা পর্যন্ত পণ্যের দামের পুরোটা বা আংশিক বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় ব্যবসায়ীকে। কিন্তু পণ্য আসার পর ব্যবসায়ী তা খালাস না করলে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করে কাস্টমস। নিলামে বিক্রি না হলে রাজস্ব হারায় কাস্টমস। আবার ওই ব্যবসায়ীর পণ্য খালাস না নেওয়ায় তাঁর কাছ থেকেও শুল্ককর পায় না। বন্দর কর্তৃপক্ষও কনটেইনার রাখার ভাড়া পায় না। কনটেইনারের মালিকপক্ষও কনটেইনার ভাড়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে না। কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকলেও ক্ষতিপূরণ মাশুলও আদায় করতে পারে না আমদানিকারকের কাছ থেকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মতামত লিখুন
আপনার নামটি লিখুন