ফরিদগঞ্জের শোভান গ্রামে বাইতুন নাজাত মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা ॥ মসজিদের সাইনবোর্ড ভাংচুর

ফরিদগঞ্জে গলায় সুপারি বিঁধে শিশুর করুণ মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাঁদপুর জেলাধীন ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের শোভান গ্রামের নঈমুদ্দিন তালুকদার বাড়ির দেড়শ বছরের পুরনো (নতুন নাম করণ) বাইতুন নাজাত জামে মসজিদে সন্ত্রাসী হামালার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বাইতুন নাজাত জামে মসজিদের কমিটির বিষয়টি নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দাওয়াতী মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কিন্তু ঘটনার দিন তিনি সেখানে যায়নি। ওইদিন পবিত্র জুম্মাহ মোবারকের নামাজ আদায়ের পর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মসজিদের মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনায় সন্ত্রাসীরা মসজিদের সাইনবোর্ড ভেঙ্গেও নিয়ে যায় বলে উপস্থিত মুসল্লিরা অভিযোগ করেন। ঐতিহ্যবাহী নঈমুদ্দিন তালুকদার বাড়ির দীর্ঘ দেড়শ বছরের পুরনো মসজিদটি স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হাতে গোনা দু’এক ব্যক্তি পরিচালনা করে আসছেন। জানা যায়, পাশের গ্রামের (টুবগি)’র খাঁ বাড়ির (খায়গো বাড়ি) কিছু অসাধু ব্যক্তি পাশের গ্রামে গায়ের জোরে মসজিদের পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এমনকি তারা অত্র ইউনিয়নেরও বাসিন্দা নন। জানা যায়, উল্লেখিত বাড়ির (খাঁ বাড়ির) লোকজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির সেই পূর্ব আমল থেকেই। তাদের এলাকা দিয়ে শোভান গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে। কোন কিছু ঘটলেই তাদের বাড়ির সামনে শোভান গ্রামের লোকজনদেরকে আটকিয়ে মারধর এবং ভয়-ভীতি দেখায়। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে নারাজ। যার কারণে তারা জোরপূর্বক পাশের গ্রামের মসজিদের দায়িত্ব পালনকাল হতে অদ্যাবদি মসজিদের আয় এবং ব্যয় কোনটিরই কোন সঠিক হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করে না। এ নিয়ে এলাকার সচেতন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের মাঝে মারাত্মক ক্ষোভ, চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যার প্রেক্ষিতে গত ৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীরা মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী খাঁ বাড়ির রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্যাপক তান্ডব চালায়। এই তান্ডবে রফিকুল ইসলামের বাড়ির লোকজনও অংশগ্রহণ করে বলে এলাকাবাসী জানায়। রফিকুল ইলামের বাড়ির পক্ষ হয়ে যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে তারা হচ্ছে যথাক্রমে তাজু খাঁ, আলমগীর খাঁ, হারুন খাঁ, বাবুল খাঁ, তানভির খাঁ ও কামাল খাঁসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। যেকোন মহুর্তে মসজিদে আবারো সন্ত্রাসী হামলার জোর আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মতামত লিখুন
আপনার নামটি লিখুন