বিজ্ঞানিরা বের করছে মিথ্যা ধরার নতুন প্রযুক্তি

বিজ্ঞানিরা বের করছে মিথ্যা ধরার নতুন প্রযুক্তি

অনলাইন সংস্করণ: সম্ভাব্য অপরাধীকে জেরার সময় তদন্তকারীরা কখনো ‘লাই ডিটেক্টর’-এর সাহায্যে মিথ্যা বক্তব্য শনাক্ত করেন। এবার আরও নির্ভরযোগ্যভাবে মিথ্যা ধরার তোড়জোড় চলছে। আধুনিক এই যন্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারে। একটা খুন হয়েছে। কিন্তু খুনিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যপ্রমাণের অভাব রয়েছে। এমন অবস্থায় পুলিশ অসহায় হয়ে পড়ে। লাই-ডিটেক্টর পরীক্ষায় ফাঁকি দেওয়া যায় বলে তা সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়। প্রমাণ হিসেবে তার ফলাফল যথেষ্ট নয়। হেনস বলেন, ‘‘কেউ সত্যি না মিথ্যা বলছে, তা জানতে চাইলে হয় তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা যেতে পারে। যেমন ‘তুমি কি ঘটনাস্থলে ছিলে?’, ‘তুমি কি এই অস্ত্র ব্যবহার করেছো?’ ইত্যাদি। অথবা সরাসরি তার মস্তিষ্কে উঁকি মেরে দেখা যেতে পারে, সে কোনো কিছু চেনার লক্ষণ দেখাচ্ছে কিনা। একবার কিছু দেখে থাকলে মস্তিষ্ক আবার তা চিনতে পারে। কোনো অপরাধ করে থাকলে সেটা মনে পড়লে মস্তিষ্কে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। ’’ একবার কোনো জায়গায় গিয়ে থাকলে কি সারা জীবন ধরে তার ‘নিউরোনাল ইমেজ মনে থাকে? হেনস-এর টিম এক ধরনের ভিডিও গেমস-এর মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে। এই পরীক্ষার আওতায় স্বেচ্ছাসেবীরা ভার্চুয়াল বাড়িঘর ও এলাকার মধ্য দিয়ে চলে যাচ্ছেন। যা দেখছেন, সেই সব কিছু মনে রাখা তাদের দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে খুনি, ডাকাত বা হামলাকারীকে শনাক্ত করতে কাজে লাগতে পারে। তখন ঘটনাস্থলের ছবি দেখিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিউরাল প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা হবে। গোটা প্রক্রিয়াটা কোনো কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্রে লাই ডিটেক্টর যন্ত্রের মতো মনে হয়।
বিজ্ঞানীরা আরও এক ধাপ এগিয়ে অপরাধ ঘটার আগেই মস্তিষ্কের বিন্যাসের সাহায্যে সম্ভাব্য অপরাধীকে শনাক্ত করতে চান। জন-ডায়লান হেনস বলেন, ‘‘অত্যন্ত দ্রুত এক স্ক্রিনিং টেস্ট করতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। তবে আমার মনে হয় না, আগামী বছরগুলিতে সেটা সম্ভব হবে। কারণ কোনো ব্যক্তির খারাপ অভিসন্ধির মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য থাকতে পারে। তার মনে বোমা বা পিস্তল দিয়ে হামলা চালানো, পণবন্দি করার মতো মতলব থাকতে পারে। অর্থাৎ আমাদের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব সম্ভাব্য মতলব খুঁজতে হবে। এই মুহূর্তে সেটা খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু সেই মতলবের অস্তিত্ব যদি শুধু কল্পনার জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তখন কী করা যায়? সেই মতলব বাস্তবে কার্যকর না করলেও কি কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা যেতে পারে? মনের কথা আগেভাগে জেনে অপরাধীকে থামানোর সম্ভাবনা থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে রয়েছি।

– ডিডাব্লিউ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মতামত লিখুন
আপনার নামটি লিখুন