লক্ষ্মীপুরে হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা

লক্ষ্মীপুরে হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা

দেলোয়ার হোসেন মৃধ্যা ॥
লক্ষ্মীপুরে হারবাল চিকিৎসার নামে তাদের এ বাণিজ্যের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। হারবালের দেয়া এসব ভেজাল ওষুধে রোগমুক্তির বদলে উল্টো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন জটিল রোগের নাম করে ইউনানি, হারবাল, কবিরাজি, তদবির, দাওয়াখানা ইত্যাদি নামে লক্ষ্মীপুরে চিকিৎসার নামে চলছে চরম প্রতারণা। এসব কথিত চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে রোগ নিরাময় তা দূরের কথা উল্টো রোগীরা নানারকম শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। যেখানে-সেখানে খোলা হয়েছে কথিত চিকিৎসা কেন্দ্র। এগুলোর কোনো স্বীকৃতি নেই, লাইসেন্স নেই অথচ এসব কেন্দ্র্রে যৌনরোগ, পাইলস, অ্যাজমা, গ্যাস্টিক ও ক্যান্সারসহ জটিল ও বহুবিধ রোগ নিরাময়ের শতভাগ গ্যারান্টি দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করে রীতিমতো প্রকাশ্যেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইউনানি ও হারবাল চিকিৎসালয় নামের প্রতিষ্ঠান। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, কেবল অপারেটরদের চ্যানেলে অশালীন ভাষায় বিজ্ঞাপন প্রচার করে রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়ে থাকে। বিজ্ঞাপন ও লিফলেট পড়ে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সচেতন মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। মডার্ন হারবাল, জামান হারবাল, ভারত হারবাল, ইবনেসিনা হারবাল, চৌমুহনী হারবাল, ইউনানি চিকিৎসা, আধ্যাত্মিক দাওয়াখানা ইত্যাদি নানা নামে শত শত প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে। এসব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে যৌন, চর্ম রোগের পাশাপাশি হাঁপানি, বাতব্যথা, ডায়াবেটিস, লিভার সমস্যা, নারী-পুরুষের বিভিন্ন কঠিন ও গোপন রোগসহ বিভিন্ন রোগের অব্যর্থ চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হচ্ছে। রোগের নয়, রোগীর অবস্থা বুঝে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা দেন তারা। তবে রোগ নিরাময়ের গ্যারান্টি প্যাকেজের আওতায় চিকিৎসা পেতে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। তবে ফুটপাথের অবস্থা আরও ভয়াবহ। স্বল্প আয়ের মানুষ মজমায় বিভিন্ন ছবি ও বানানো গল্প শুনে অনায়াসে পটে যায়। পরে লোক বুঝে মজমার কবিরাজ নামধারী প্রতারকেরা এসব অসহায় মানুষের কাছ থেকে অনেকটা পকেট কাটার মত কাজ করে থাকে। তাদের কাছে যা থাকে তাই দিতে হবে। পরে কাঙ্খিত সেবা না পেলে আর ঐ মজমার মালিক বা কবিরাজের কাছে অভিযোগ করা হয় না। গোপন রোগের কথা বলা হয় না কাউকেই। এ সুযোগ কাজে লাগায় ভেষজ কবিরাজ নামধারী প্রতারকরা। লক্ষ্মীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মেস্তফা খালেদ, হারবালের চিকিৎসা নামে কোন চিকিৎসা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা যা করে তা সম্পূর্ন অবৈধ। আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মতামত লিখুন
আপনার নামটি লিখুন