সরকার নিষিদ্ধ করার পরও লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে গাইড বই বাধ্যতামূলক!

সরকার নিষিদ্ধ করার পরও লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে গাইড বই বাধ্যতামূলক!

দেলোয়ার হোসেন মৃধ্যা॥ সরকার নিষিদ্ধ করার পরও লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলায় ৭৩২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নোট ও গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে অভিবাবকরা শিক্ষক জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মাস ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে নোট,গাইড ও সাজেশন বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করেছেন। প্রতিটি বইয়ের মূল্য বাবদ ১৫০ টাকা আদায় করছেন তারা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে জেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেনীর সব শিক্ষার্থীর হাতে সাজেশন বই পাওয়া যায়। সবচেয়ে অশ্চার্যের বিষয় হলো ২য় শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনীর সকল ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে গাইড পাওয়া যায়। উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সাতে কথা বলে জানা গেছে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের ক্লাস শিক্ষকরা এই গাইড কিনার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রানিত করছেন এবং শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে পরবর্তীতে গাইড বই এনে দেন বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ক্লাসে ঢুকেই দেখা গেছে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সরকারি পাঠ্যবই বিপরীতে রয়েছে গাইড ও সাজেশন বই। সূত্রে আরো জানা যায, সরকারি নিয়মনীতি অমাণ্য করে, প্রাইমারি শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সকাল এবং বিকেলে স্ব-স্ব স্কুলে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের কে বিশেষ ক্লাসের নামে ভালো ফলাফলের অজুহাতে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এবং প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে ৫ শত থেকে ১ হাজার টাকা হারে আদায় করছেন। অভিবাবক খুরশিদা বেগম ও কহিনুর বেগম জানান, ৫ম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষার আগেই ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষরা গাইড ও সাজেশন বই কেনার জন্য তাগিদ দিয়ে আসছেন। সে জন্য আমরা ছেলেমেয়ের ভালো ফলাফলের আশায় গাইড ও সাজেশন বই কিনে দেই এবং স্কুলে প্রাইভেট পাড়াই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের এসব বই বিক্রি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সে মোতাবেক আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের বলছি গাইড ও সাজেশন বই কেনার জন্য। তাছাড়া প্রায় স্কুলেই গাইড ও সাজেশন বইয়ের আলোকে পড়ালেখা চালানো হচ্ছে। এতে আমাদের উপর কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ সালেহ মুঠো ফোনে এ প্রতিনিধি কে জানান, গাইড ও সাজেশন বই সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ আছে, কোন শিক্ষক যদি ছাত্র-ছাত্রীদের গাইড ও সাজেশন বই কিনতে বাধ্য করেন তবে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ ক্লাশ করা গেলেও তার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের নিকট কোন অর্থ আদায় করা যাবে না।

Leave a Reply