অতিবর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত তলিয়ে রয়েছে রোপা আউশ ধান ও আমনের বীজতলা

বরগুনা প্রতিনিধি: গত পাঁচ দিনের অতিবর্ষণে বরগুনার আমতলীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার সর্বত্র ভয়াবহ জলাদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে আউশের ধান ক্ষেত ও আমনের বীজতলা তলিয়ে থাকায় চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত পানি নিস্কাশন করতে না পারলে কৃষকদের রোপা আউশ ধান ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খোজ নিয়ে জানাগেছে, শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত একটানা পাঁচ দিন ধরে অতিবর্ষণে আমতলীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। বৃষ্টির পানিতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ইউনিয়নের মাঠ-ঘাট, খাল- বিল, পুকুর-ডোকা এমনকি আমন ধানের ক্ষেতে পানি জমে থই-থই করছে। তলিয়ে গেছে সকল রোপা আউশ ধানের ক্ষেত ও আমনের বীজতলা। ¯øুইজগেটগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিস্কাশন না হওয়ায় উপজেলার সর্বত্র ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের রোপা আউশের ধান কর্তণে সমস্যা ও আমনের
ক্ষেতে চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। কৃষকরা জানান, দ্রæত পানি নিস্কাশন করতে না পাড়লে রোপা আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবী জানান।

অপরদিকে অতিবর্ষণে কষ্টে দিনাতিপাত করছে হতদরিদ্র ও দিন মজুররা। অতি বৃষ্টির কারনে তারা কোন কাজ পাচ্ছেন না। দিন মজুর মোঃ সোহরাফ মিয়া বলেন, আজ চার দিন হলো কোন কাজ পাচ্ছি না। অতি বৃষ্টির কারনে কেহ কাজে নিতে চাচ্ছে না। গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের কৃষক জাফর মোল্লা বলেন, অতিবর্ষণে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় রোপা আউশের ধান কর্তণ ও আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারনে জমি চাষাবাদ করতে পারছি না। চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের কৃষক আলআমিন হাওলাদার বলেন, বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত তলিয়ে থাকায় আমনের বীজ বপন করতে পারছি না।

হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিলা গ্রামের কৃষক ঝন্টু তালুকদার বলেন, চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। মাঠ-ঘাট, খাল- বিল, পুকুর-ডোকা এমনকি আমন ধানের ক্ষেতে পানি জমে তলিয়ে রয়েছে। ¯øুইজগেট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিস্কাশন না হওয়ায় সর্বত্র ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, পর্যাপ্ত পানি নিস্কাশন না হওয়ায় উপজেলার সর্বত্র জলাবন্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকদের রোপা আউশ ধান কর্তণ ও আমনের বীজ বপনে সমস্যা হচ্ছে।