অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মেয়র জুয়েল

মাহফুজুর রহমান: কখনো প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সামনে সাঁটানো নিজের নির্বাচনী প্রচারণার ফেস্টুন নিজেই গিয়ে খুলে ফেলেন মেয়র।কখনোবা চির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান রাজনৈতিক দলের
প্রার্থীর সাথেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিশাল শোডাউন করেন তিনি। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চির প্রতিদ্বন্দ্বী এবং প্রধান দলের নেতাকর্মীদের সহাবস্থানের এমন অচেনা দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান সকলেই।

এমন সৌহার্দ্য স্থাপন সহ অনন্য নানান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচনায় প্রশংসিত হয়েছেন চাঁদপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনিত নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল। তবে এবার আরেক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের মধ্য দিয়ে হাজির হলেন মেয়র জুয়েল।

পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের আগ পর্যন্ত সম্মানীর টাকা নেবেন না পৌরসভার নবনির্বাচিত পরিষদ। এছাড়াও মেয়র জুয়েল তার পুরো মেয়াদকালে কোনো সম্মানীর টাকা গ্রহণ করবেন না এবং সেই সম্মানীর টাকায় তিনি চালু করবেন ‘মেয়র ভাতা’। যে ভাতার টাকা পাবেন অসহায় দুস্থ আর অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষর্থীরা; হবে সামাজিক কার্যক্রমও। সম্প্রতি এমন সিদ্ধান্তের কথাই জানিয়েছেন তিনি। আর এই সিদ্ধান্ত সারাদেশে অনুকরণীয় হবে বলে মনে করছেন সূধী মহল।

তিনি বলেন, আমি আমার বেতন নিচ্ছি না। সিদ্ধান্ত নিয়েছি পুরো মেয়াদকালেও সম্মানী নেব না। সম্মানীর পুরো টাকা দুস্থ অসহায় মানুষদেরকে ভাতা হিসেবে দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। আমার সম্মানীর অর্থ একটি ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখছি। প্রতি মাসেই সে টাকা জমা হবে। ওই টাকা থেকেই দুস্থ অসহায়দের মাঝে দেয়া হবে ‘মেয়র ভাতা’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অফিস স্টাফদের বেতন এখন পর্যন্ত বকেয়া আছে। তাদের বকেয়া বেতন যতদিন পরিশোধ না হবে ততদিন আমাদের পৌর পরিষদের কেউই বেতন নেবেন না। এটা আমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

পৌরসভায় সেবা নিতে আসা নাগরিকরা জানান, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর জিল্লুর রহমান জুয়েল বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে একের পর এক উদাহরণ তৈরি করছেন। যা আমরা আগে কখনো চিন্তাও করতে পারিনি। ব্যতিক্রমী চিন্তা ও কাজের দ্বারা তিনি ইতোমধ্যে পৌরবাসীর আস্থা অর্জন করে চলেছেন। ইচ্ছা করলেই এখন মেয়রের সঙ্গে দেখা করা যায়। অভিযোগ অনুযোগ তিনি সরাসরি শুনছেন। এর আগে এমনটি হতে দেখিনি।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পাঁচমাস বকেয়া রয়েছে। এ বেতন না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় রয়েছে পৌরসভার আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা। প্রসঙ্গত, গত ২৪ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।