আজ মহাষষ্ঠী, ঢাকের বাদ্য-উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন

নরসিংদী প্রতিনিধি: ‘মাগো জগৎজননী, কৃপা কর তুমি, একশত একটি দিব পুষ্প, যদি বাঁচি প্রাণেতে’- ত্রেতা যুগের অবতার শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কার অধিপতি রাবণের অশোক বনে বন্দি সহধর্মিণী সীতাকে উদ্ধার করতে যাত্রার আগে শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে এভাবেই দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার স্তুতি করেছিলেন। অবতার রামচন্দ্রের শরৎকালের অকাল বোধনের তিথিতে প্রতি বছর বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় আয়োজন করে মহাদেবী মহামায়ার মহাউৎসবের। বোধনে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গাপূজা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনির শব্দ দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের জানান দিচ্ছে। পূজার মন্ত্রোচ্চারণ, আরতি আর মাইকের আওয়াজে মাতোয়ারা হবে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলো। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেবীর মহাষষ্ঠীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হলো।

পাঁচ দিনব্যাপী সার্বজনীন এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে নরসিংদী জুড়ে শুরু হয়েছে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। উৎসবের প্রথম দিনে বোধনে রাত্রি ১টা ৪২ মিনিটের মধ্যে বিধি মেনে মাটির প্রতিমায় প্রাণ সঞ্চার করা হবে। আজ সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের গতে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ এবং বেলতলা কিংবা বেলগাছের নিচে দেয়া হবে ষষ্ঠীপূজা। দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দুর্গোৎসব চলাকালে সারা দেশের পূজামণ্ডপে প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ-আরতি হবে। 

এছাড়া নরসিংদী জুড়ে দুর্গোৎসব চলাকালে পূজামণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভার উপর সরকারি নিষেধ রয়েছে। এ উৎসব এখন শুধু হিন্দুদেরই নয়; রূপ নিয়েছে সার্বজনীনতায়। ভক্ত ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী লোকেরাও দেবী দর্শনে পূজামণ্ডপ গুলোতে ভিড় জমায়।

এবার সারা নরসিংদীতে প্রায় ৩শত ৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারা নরসিংদীতে প্রধান প্রধান পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে বাগবিতান সংঘ (গোপীনাথ আখড়া), সেবা সংঘ, অগ্রনী সংঘ, দেবাঙ্গন, শিববাগ লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম, পাতিল বাড়ি রোড বালুরমাঠ, বৌয়াকুড়, বীরপুর, হাজীপুর, ব্রাহ্মন্দী কালাচাঁন মন্দির, ভেলানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের জন্য মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নরসিংদীতে র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। আগামী ২৬ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাস জানান, মূলত, এবার করোনা কারনে মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের থাকবেনা। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহাঅষ্টমী থেকেই মূলত মন্দিরে-মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামতো। প্রায় মণ্ডপের সামনে বিশাল প্যান্ডেল ছাড়াও মন্দিরকে সাজানো হয়তো নতুন রঙ, সাজ ও আলোকসজ্জায়। এবার আলোকসজ্জায় কিংবা লাইটিং থাকবেনা।তবে সেবা সংঘের মোড়ে পুলিশের বিশেষ কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছ।