আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চান আলোকচিত্রী শান্ত চৌধুরী

0
872
আলোকচিত্রী শান্ত চৌধুরী

মাহফুজুর রহমান: মানুষ তার কর্মের মাঝে বেঁচে থাকে। তবে বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেকের একটি অবলম্বন বেঁছে নিতে হয়। এক্ষেত্রে অবলম্বন হিসেবে জীবনের একটি পর্যায়ে কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কিংবা ব্যারিষ্টারি বেঁছে নেয়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ক’জনই বা অন্য পেশায় বা নেশার অভিমুখে ঝুঁকতে পারে?

সকল অবলম্বণের চিন্তা-চেতনাকে দূরে ঠেলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর সাধনা,চর্চা, প্রবল আগ্রহ আর একাগ্রতায় যিনি আজ ফটোগ্রাফি শিল্পে।

তিনি হলেন আলোকচিত্রী শান্ত চৌধুরী।ফটোগ্রাফি তাঁর শখ, নেশা ও পেশা। একজন ফিল্যান্স ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন এবং প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন ফটোগ্রাফিতে। নিজের সৃজনশীলতা,মেধা, দক্ষতা, চর্চা এবং জ্ঞানের শৈল্পিকতা আর সাধনা যাকে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া ওয়েডিং ফটোগ্রাফির পথিকৃৎ প্রীত রেজার ‘‘ওয়েডিং ডায়েরি’র বাংলাদেশ টিমে।

অবশ্য এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের আধুনিক ওয়েডিং ফটোগ্রাফির শিকড়ও বলা যায়। ফটোগ্রাফিতে এসে যিনি সান্নিধ্য পেয়েছেন এসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েডিং ফটোজার্নালিস্ট ও ‘ওয়েডিং ডায়েরি’র সিইও প্রীত রেজা’র কাছে। এক্ষেত্রে শান্ত নিজেকে গর্বিত মনে করেন এবং তার প্রতিষ্ঠানের সকলের প্রতি উৎফুল্লচিত্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের ফটোগ্রাফি জীবনের দারুণ সব উপলব্দি এক সাক্ষাতকারে ‘বিডি কারেন্ট নিউজ২৪’ কে জানান তিনি।

শান্ত চৌধুরী মনে করেন, ‘সৃজনশীলতা,মেধা, দক্ষতা,জ্ঞানের শৈল্পিকতা এবং চর্চাই পারে অর্থপূর্ণ একটি শিল্পকর্ম দর্শকের সামনে তুলে ধরতে। ফটোগ্রাফির সফলতা আসে তখনই, যখন কোনো শিল্পী তার আলোকচিত্রের মাধ্যমে কোনো বাস্তবতা বা মোমেন্টকে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়’

ফটোগ্রাফিতে কিভাবে শুরু করেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘ ছোটবেলায় সব বাচ্চাদের মতো ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছেটা আমারও ছিলো। কারণ তখন তো নিতান্তই না বুঝেই চেয়েছিলাম।এসএসসি পাশের পর কুমিল্লা পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হই। দ্বিতীয় সেমিস্টারের থাকাকালীন ছবি তোলার প্রতি প্রবল আগ্রহ আসে।

বাসায় আব্বুর একটি পুরনো ক্যামেরা ছিল।ঐটা নিয়েই বেড়িয়ে পড়তাম এখান থেকে সেখানে। একদিকে ছবি তোলার প্রতি প্রবল আগ্রহ অন্যদিকে স্বপ্ন ছিল প্রীত রেজা স্যারের কাছে ছবি তোলা শিখবো। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।

ভর্তি হলাম ‘ওয়েডিং স্কুল অফ ফটোগ্রাফিতে’ (WD School of Photography)। তারপর আর কেউ আমায় থামাতে পারেনি।জন্মস্থান কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে ক্লাস করে আবার কুমিল্লায় ফিরে আসতাম। ক্লান্তিবোধ আমার স্বপ্ন আর আগ্রহের কাছে বিন্দুমাত্র ঘেঁষতে পারেনি।

তখন বাসায় শুধু আম্মু ছাড়া কাউকেই জানাইনি। আম্মু, ছোট ভাই আর আমার বন্ধুরা সবসময়
সাপোর্ট দিতো। মনের গহীণে একটা স্বপ্ন ছিল প্রীত রেজা স্যারের কাছে ছবি তোলা শিখবো এবং একসাথে কাজ করবো। আলহামদুলিল্লাহ্, আজ মনে লালন করা আমার সে স্বপ্ন পূরণ হলো। ‘ওয়েডিং ডায়েরি’র বাংলাদেশ টিমের ফটোগ্রাফার হিসেবে জয়েন করলাম। আমি আমার স্বপ্নের কাছে সফল।

স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতার কোন শেষ নেই। ধন্যবাদ প্রীত রেজা স্যারের প্রতি যিনি নিজ হাতে আমাকে সব কিছু শিখিয়েছেন।

ফটোগ্রাফি’র ভবিষ্যত নিয়ে তিনি জানান, ফটোগ্রাফি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করতে চাই এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। নিজের প্রতিষ্ঠানের সুনাম বহুগুণে বাড়িয়ে প্রীত রেজা স্যারের মতো একজন হতে চাই।