ইটনায় দুই গ্ৰামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে নিহত ২ আহত অর্ধশত

মোবারক হোসেন, কিশোরগঞ্জ :
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত ইটনায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্ৰামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই গ্ৰামের ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও দু’পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে ২৬ ডিসেম্বর (শনিবার) সকালে উপজেলার মৃগা ইউনিয়নে শান্তিপুর ও প্রজারকান্দা নামের দুই গ্ৰামবাসীর মধ্যে। নিহতরা হলেন-প্রজারকান্দা গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে বাদল মিয়া (৪৫) ও শান্তিপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মিরাশ আলী (৭০)। শনিবার সকালে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী দুুই পক্ষের মধ্যে চলা সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় টেম্পুস্টেশনে টেম্পুতে লোক উঠানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ ও এক ব্যক্তিকে মারধরের জেরে সকাল ৯টায় এ সংঘর্ষ হয়।
 পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের শান্তিপুর ও প্রজারকান্দা গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার স্থানীয় টেম্পুস্ট্যান্ডে টেম্পুতে লোক উঠানোকে কেন্দ্র করে দুগ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে ঝগড়া হয়। দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর শুক্রবার রাতে আমিরগঞ্জ বাজারে দু’পক্ষে বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিসে বসে। সালিস চলাকালীন উত্তেজিত প্রজারকান্দা গ্রামের আতাউরকে মারধর করে শান্তিপুরের লোকজন। এরপর থেকে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এর জেরে শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে দু’পক্ষের অন্তত দুই হাজার লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাজারের কাছে আন্ধাইর নামক এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে প্রায় দেড় ঘন্টা। এতে দু’পক্ষের ২ জন ঘটনাস্থলে মারা যায়। আর আহত অর্ধশত লোক কে পার্শবতী হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ সদরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সেখানে পুলিশের পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুর্শেদ জামান জানান, দুই গ্রামের বাসিন্দাদের পূর্ব বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন নিহত হয়েছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।