একটি মোহনীয় গোল: মেসি

নিউজ ডেস্কক: অবিশ্বাস্য, অসাধারণ, অকল্পনীয়, অভাবনীয়- এমন একটা গোলকে কোন বিশেষণ দিয়ে সাজানো যায়? না, একটা বিশেষণ তো কমই হয়ে যাবে। যেভাবে ন্যাপোলির পুরো রক্ষণকে একাই কাত করে উদযাপন করেছেন লিওনেল মেসি, তাতে কেবল ‘অ’ অক্ষরের বিশেষণই যথেষ্ট হবে না!

কতটা গোছালো রক্ষণ, মাঝমাঠ থেকে ডি জংয়ের বল বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই চার ডিফেন্ডার- মারিও রুই, কালিদু কুলিবালি, কোস্টাস মানোলাস আর জিওভানি ডি লরেঞ্জো যে যার জায়গায়। বলটা আসে লুইস সুয়ারেজের পায়ে। সেখানে তাকে ঘিরে ধরেন আরও দু’জন, সুযোগ বের করতে না পেরে মাপা ক্রসে ডান পাশে থাকা লিওনেল মেসির উদ্দেশে বলটা পাঠিয়ে দেন উরুগুয়ে তারকা।

মেসির পায়ে বল মানে প্রতিপক্ষের রাজ্যের টেনশন। এবার চার ডিফেন্ডারের সঙ্গে যোগ দিলেন মাঝমাঠের আরও তিনজন। শুরুতে ডানপ্রান্তে থাকা মেসিকে আটকানোর চেষ্টা তিন ডিফেন্ডারের, পারেননি, তিনজনকে পাস কাটিয়ে বেরিয়ে পড়েন মেসি। সামনে আরও তিনজনের বাধা, সেটাও হলো ভ ুল। কিছুটা শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মেসিও, তাতে অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হননি, বাঁ পায়ের নান্দনিক এক শটে বল ঠিকই আশ্রয় নেয় ন্যাপোলির জালে। দৌড়ে গিয়ে ভিন্ন এক উদযাপন মেসির। সতীর্থরাও মুহূর্তেই হাজির। আহা, কি মোহনীয় এক গোল।

যে গোল শুধু সমর্থকরা দেখেছেন তা কিন্তু নয়, সুয়ারেজ তো একদম কাছ থেকে উপভোগ করেছেন মেসির এই ফুটবলশৈলী। ন্যাপোলির ডি-বক্সে মেসি যখন একের পর ডিফেন্ডারকে বোকা বানান, একদম কাছ থেকে সেটা চেয়ে চেয়ে দেখেন লুইস সুয়ারেজ। হয়তো তিনি ভেবেছেন, কোনো একটা সময় তাকে লাগবে মেসির। এ জন্যই কাছে কাছে ছিলেন। কিন্তু মেসির আত্মবিশ্বাস যে ছিল শতভাগ। একটু একটু করে এগিয়ে যান সামনে, ন্যাপোলির বিপৎসীমায় দাঁড়িয়ে কারও সাহায্য ছাড়া একাই তাদের সাত-আটজনকে টপকে যান আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

এ যেন ৩৩-এ ২১-এর মেসি। বয়স ৩৩ হলেও তার এই গোলে সেই একুশের গর্জনই শোনা যায়। তিনি গোলের কারিগর, তিনি ম্যাজিকম্যান। তাই বলে এভাবেও গোল। সেই লা মাসিয়া মাতিয়ে বার্সার মূল দলে আসেন, দিনের পর দিন বল পায়ে নতুন নতুন জাদু দেখিয়েছেন। কখনও ফ্রি-কিক, কখনও পেনাল্টিতে আবার, কখনও ট্যাকেলে। পুরো ক্যারিয়ারে অসংখ্য গোল করেছেন মেসি। সব গোল সবার মনে থাকার কথাও না। কিন্তু কিছু গোল আছে, যা কিনা থাকবে যুগ যুগ ধরে মনে। এমনি একটা গোলের দেখা মিলেছে গেল শনিবার রাতে। তাও আবার যখন স্প্যানিশ লিগের মুকুট হারানো বার্সা একটা ট্রফির জন্য করছে ধড়পড়।