ঐতিহাসিক নওগাঁ দিবস আজ

তাড়াশ সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আজ ঐতিহাসিক নওগাঁ দিবস। এ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন ১০’ই নভেম্বর, রাতে নৌ-পথে আসা পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রায় ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বিশ্রাম ও সকালের নিয়মিত ট্রেনিংয়ের জন্য অবস্থান নেয় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (র) এর মাজার ও বাজার এলাকায়।

খবর পেয়ে পরদিন ১৯৭১ সালের ১১ই নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোরে এই স্থানটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসর মিলিশিয়া এবং রাজাকারেরা। একপর্যায়ে মুক্তিবাহিনী খোঁজ করার উদ্দেশ্যে নওগাঁ শাহ শরিফ জিন্দানি (রঃ) এর মাজারে পৌছে মাজার শরিফে ব্যাপক ভাংচুর ও গুলিবর্ষন শুরু করে তারা।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে শুরু হয় পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই গেরিলা যুদ্ধ। ভোর থেকে শুরু হয়ে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে দুই শতাধিক সেনা সদস্য ও এদের দোসর মিলিশিয়া এবং রাজাকারদের দেড় শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়।

পরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায় পাক সেনাবাহিনী’র সদস্যরা। এ সময় একজন ক্যাপ্টেনসহ আটজন পাকিস্থানী সেনা সদস্য অস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে এই খবরটি তৎকালিন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও ভারতের আকাশবাণীতে বিশেষভাবে প্রচারিত হয়। মূলতঃ নওগাঁ যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানীদের পরাজয়ের পটভূমি রচিত হয়।

এই বিজয়ে কারণে স্বাধীনতার পর থেকে প্রতি বছর ১১ই নভেম্বর ঐতিহাসিক নওগাঁ দিবস পালন করে আসছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮বছর পর আজও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কোথাও ঠাঁই মেলেনি ঐতিহাসিক নওগাঁ যুদ্ধ ও এই যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি “পলাশডাঙ্গা যুব শিবির” এর।

ঐতিহাসিক তাড়াশের নওগাঁ যুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশের অন্যান্য সংগঠনের মত পলাশডাঙ্গা যুব শিবির, সংগঠনটির বীর নেতাদের বীরত্বের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানে উদ্যোগ নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের মানুষদের।