কচুয়ায় ভুয়া নামে প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রাপ্তির অভিযোগ

ওমর ফারুক সাইম, কচুয়া: কচুয়ায় ভুয়া জম্ম সনদ ও ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ মর্মে জানাগেছে মুহাম্মদ সামছুল আলম পিতা মো: আব্দুর রহমান, সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পদে পরীক্ষার রোল নং ৫২৩২১২১ ও ইয়াসমিন আক্তার,পিতা তুতু মিয়া পরীক্ষার রোল নং ৫২২৮৫৩১ ;কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিন ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা দেখিয়ে ভুয়া জম্ম সনদ,চেয়ারম্যানের সনদ ব্যবহার করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভের জন্যে আবেদন করে।

দুই চাকুরী প্রার্থী সামছুল আলম ও ইয়াসমিন আক্তার ১৭ অক্টোবর চাঁদপুরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার অধিবাসী তার নিজ জেলায় বিধি অনুযায়ী আবেদন করতে পারবে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় উল্লেখিত সামছুল আলম ও ইয়াসমিন আক্তার ওই এলাকায় এই নামে কোন লোক আছে বলে কেউ বলতে পারেনা। গোহট দক্ষিন ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়া ও ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান নিশ্চিত করেন সামছুল আলম ও ইয়াসমিন আক্তার তার ওয়ার্ডের খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নয়। ইউপি সদস্য সফিকুর রহমান আরো জানান খাজুরিয়া গ্রামের জুমা বাড়ির মসজিদে সুনামগঞ্জ জেলার অধিবাসী সামছুল আলম নামে একজন মুয়াজ্জিন হিসেবে ৪/৫ বছর পূর্বে কর্মরত ছিল।

সহকারি শিক্ষক পদে মৌখিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাকযোগে কচুয়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামে আসলে বিষয়টি ওই এলাকার মানুষের নজরে আসলে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয় । খাজুরিয়া গ্রামের ফরিদ আহমেদ বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়য়ে আবেদন করে এবং স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীদের সংবাদ পরিবেশনের জন্য অবহিত করে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো: মাজেদুর রহমান খান বলেন এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ কতৃপক্ষকে অবহিত করনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমরা জানাব।

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মো: শাহবুদ্দিন বলেন কচুয়া থেকে এরকম একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে,ভ’য়া নাম ঠিকানা প্রমানিত হলে নিয়োগ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারি শিক্ষক পদে চাকুরী প্রার্থী সামছুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন আমি সুনামগঞ্জ জেলার অধিবাসী ,কচুয়ায় অনেক দিন ছিলাম সে জন্য আমি ও আমার স্ত্রীর বোন কচুয়ার ঠিকানা ব্যবহার করে সহলভফা শিক্ষক পদে পরীক্ষা দিয়েছি।

খাজুরিয়া লক্ষীপুর এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ভ’য়া তথ্য দিয়ে সত্য গোপনকারী সামসুল আলম ও ইয়াসমিন আক্তারের বিরুদ্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।