করোনা পরিস্থিতিতে দেশবাসীর প্রতি রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলামের আহ্বান

রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি :বর্তমানে করোনা ভাইরাসের উদ্ভট পরিস্থিতিতে মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় ঘরে বসে সিয়ার-সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের জন্য আহব্বান জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা শিবগঞ্জের কৃতি সন্তান মানবতার ফেরিওয়ালা ও কুমিল্লা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম। তিনি এক বিবৃতিতে দেশের ইসলাম ভিরু মুমিনদের জ্ঞাতার্থে বলেন, আজ (২৪শে এপ্রিল) শুক্রবার সূর্যস্ত যাবার পর থেকেই শুরু হচ্ছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতময় রমজান মাস।

 সিয়ার সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মাস এটি। তাই প্রতিটা মুহূর্তকে আমাদের সঠিক ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে হবে। সেই সাথে পবিত্র রমজান মাসের শিক্ষা সারা বছর ধরে রেখে সঠিকভাবে ইসলামের পথে প্রতিটা দিন চলতে হবে। ইসলামের পঞ্চম ভিত্তির তৃৃতীয় ভিত্তিই হলো রোজা, প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারীর প্রতি মাহে রমজানের রোজা পালন করা ফরজ

একজন মুসলমানের জন্য নামাজ যেমন ফরজ, ঠিক তেমনিভাবে রমজান মাসের রোজা পালন করাও ফরজ।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনরা তোমাদের প্রতি আমি মাহে রমজানের রোজাকে ফরজ করেছি। যেমন ফরজ করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতি। এতে আশা করা যায় যে, তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পারবে (আল-কুরআন)। এই পবিত্র রমজান মাসেই পবিত্র আল-কুরআন নাজিল হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন- রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে আল-কুরআন, যা মানুষের দিশারী এবং স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী। (সূরা বাকারা : ১৮৪)। একটি সহি হাদিস থেকে তাৎপর্যপূর্ন রমজান মাসের গুরুত্ব অত্যন্ত ভালভাবে উপলব্ধি করা যায়।

যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসূলে করিম (সাঃ) অতিশয় আনন্দিত হতেন, তাঁর সাহাবাদের বলতেন, তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। এরপর তিনি এ মাসের কিছু ফযিলত বর্ণনা করে বলতেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করা হয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাত যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল। (নাসায়ী)।

রোজা রাখার প্রথম বা পূর্বশর্ত হচ্ছে নিয়ত। সহি নিয়ত ছাড়া রোজা কবুল হয় না। ইসলামে সৎকাজে নিয়ত করাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নিয়তকে গুরুত্ব দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি কাজে দেহ ও আত্মার সমন্বয় সাধন করে কাজটিকে সর্বাধিক বাঞ্ছিত মানে উত্তীর্ণ করা। তাই রোজা রাখার পূর্বে অন্তরের অন্তস্থল থেকে নিয়ত করা অবশ্যই করনীয়। মানব জীবনে নিয়তের গুরুত্ব অনেক।

রাসূল (সা:) বলেন, প্রত্যেকটি আমল (কর্ম) নিয়তের উপর নির্ভশীল বা সকল কাজের ফলাফল নিয়ত অনুযায়ী পাবে। (বুখারী ও মুসলিম)।

ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় নিয়তের সঙ্গে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহারসহ যাবতীয় অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকাকেই রোজা বা সিয়াম সাধনা বলে। ইসলামের পঞ্চম ভিত্তির তৃতীয় ভিত্তি হলো রোজা, প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নর-নারীর প্রতি মাহে রমজানের রোজা পালন করা ফরজ। একজন মুসলমানের জন্য নামাজ যেমন ফরজ, ঠিক তেমনিভাবে রমজান মাসের রোজা পালন করাও ফরজ। হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা বলেন- আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় বান্দা তাহারাই যাহারা ইফতার করিতে দেরী করে না। (তিরমিযী)।

করোনায় মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, আসুন আমরা মহান আল্লাহ্ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র রমজান মাসে নামাজ পড়ি ও রোজা রাখি। সেইসাথে সম্প্রতি মহামারী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘরে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি। পাশাপাশি মানবতার দুয়ারে দাঁড়িয়ে দেশের বিত্তবানদের মানব সেবার পাশাপাশি অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান।