করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় রাজশাহী ফাঁকা নগরীতে পরিণত : সতর্কতায় সেনাবাহিনীর টহল

0

রুহুল আমীন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং বিস্তৃতির ঝুঁকি বিবেচনায় ইতোমধ্যেই রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সেনা সদস্যরা মাঠে নেমেছেন এবং যথারীতি কাজ শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ শে মার্চ) সকাল ৯ টার পর থেকে রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর পেট্রল টিম মাঠে নেমে পড়েছেন। সেনা সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে অহেতুক রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতে নিষেধ করছেন। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসনকেও সহায়তা করছেন তারা। সেনাবাহিনী সড়কগুলো পরিদর্শন করছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তারা বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের করণীয় ঠিক করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য সেনাবাহিনীর জনবলের কোনো ঘাটতি হবে না বলেও জানান তারা। তিনি আরো বলেন, আমরা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করছি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এই মুহুর্তে জনসচেতন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্কে রাজশাহী শহর এখন ফাঁকা নগরীতে পরিণত হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহীর নগরীটি একেবারেই সুনশান-নিস্তব্ধ। একেবারে নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া রাজশাহীর সড়কে তেমন দেখা মিছলেনা মানুষের। দুই একজন মানুষ থাকলেও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে কেউ বের হচ্ছে না।

এখন রাস্তা-ঘাটে নেই কয়েকদিন আগের সেই কলহল মুখর পরিবেশ। এখন পরিণত হয়েছে প্রাণহীন নগরীতে। যেনো জীবিকার তাগিদে আসা মানুষগুলো ফিরেছে নাড়ির টানে বাড়ি। ঈদের দিন ছাড়া এমন চিত্র চোখে পড়ে না এই নগরের।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকায় এমন ফাঁকা দৃশ্য দেখা যায়। শুধু সাহেব বাজারই নয়- নিউ মার্কেট, গোরহাঙ্গা, রেলগেট, ভদ্রা, তালাইমারী, লক্ষীপুর ও কোর্ট এলাকার রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা বল্লেই চলে। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে রেলস্টেশন ও বাসটার্মিনাল এলাকাও ফাঁকা।

এছাড়াও রাজশাহী শহরের বিভিন্ন বাজারগুলোর দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু ফার্মেসী খোলা দেখা গেছে। এমনকি সড়কের ছোট ছোট যানবাহনের উপস্থিতিও একেবারে কম। সর্বপরি রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা শহরগুলো আজ একই রকম পরিবেশ বিরাজ করছে।