কিশোরগঞ্জে বাড়ছে সংক্রমণ কমছে সচেতনতা

কিশোরগঞ্জে লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। প্রথম দিকে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও মাঝখানে বেশ কিছু দিন ছিল এর সংখ্যা ছিল খুবই কম।গত কয়েকদিন ধরে পুরো জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। কিশোরগঞ্জে করোনা ভাইরাস যতই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ততই যেন মানুষ সচেতন হীন হয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য বিধির বালাই নেই করোনা হটস্পট এই জেলাতে। করোনা ভাইরাসের নেই কোন আতঙ্ক তাদের মধ্যে। যে যার মত করে চলাফেরা করছে।

গত ১৪ জুন রবিবার রাতে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৯৪৮  জন, মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।এই পর্যন্ত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন ২৯৭ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে  শীর্ষে রয়েছে ভৈরব উপজেলা।এই পর্যন্ত শুধু ভৈরব উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৬৪ জন। এই উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন।

অপরদিকে করোনা আক্রান্তের দিক থেকে জেলার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা।এই পর্যন্ত সদর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১৫৩ জন। এই উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন।

 আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে জেলার দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শহরের বেশ কিছু স্থানে ও গ্ৰামের হাট বাজারে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি।যে যার মতো করে চলাফেরা করছে। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা মুখে মাস্ক পর্যন্ত ব্যবহার করছে না।কারো কারো দেখা গেছে মাস্ক মুখে পরিধান না করে গলায় ঝুলিয়ে রাখতে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযান চলাকালে স্বাস্থ্য বিধি মানলেও অভিযান শেষ হলেই যেই লাউ সেই কদু। গ্ৰাম অঞ্চলের হাট বাজার গুলো তে স্বাস্থ্য বিধির বালাই নেই বললেই চলে। একজন আরেকজনের সাথে গা ঘেঁষে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। চায়ের দোকানে জমে উঠে আড্ডা। দেশে যে করোনা ভাইরাস নামক মহামারী চলছে তা যেন কারো খবরেই নেই।

মানুষের সচেতনতার অভাব, সামাজিক দূরত্ব না মানা, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিধি না মানায় কিশোরগঞ্জ জেলা করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এই জেলাতে এখনি যদি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ না করা যায় তাহলে বড় ঝুঁকিতে পড়তে হবে এই জেলা বাসী কে , এমনটাই দাবি করেছেন সচেতন মহল।

মোবারক হোসেন/কিশোরগঞ্জ/