কিশোরগঞ্জে ভাবী হত্যার দায়ে দেবরের মৃত্যুদণ্ড

মোবারক হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ভাবী হত্যার দায়ে দেবর কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি বাসির উদ্দিন কে সেই সাথে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর পাঁচ আসামিদের বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি বাসির উদ্দিন জেলার কুলিয়ার চর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকায় মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। ২৪ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আব্দুর রহিম এই রায় প্রদান করেন।এই সময় বেকসুর খালাস প্রাপ্ত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি বাসির উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ার চর উপজেলার লক্ষীপুর গ্ৰামের মাদ্রাসার শিক্ষক জজ মিয়ার সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার নোয়াগাঁও গ্ৰামের আম্বিয়ার। তাদের সংসারে চার ছেলে মেয়ে রয়েছে। আম্বিয়া ও জজ মিয়ার পরিবারের লোকজনের সাথে তেমন বনিবনা ছিল না। সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকত।এই জন্যই আম্বিয়া তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। কিছুদিন পর আম্বিয়ার স্বামী জজ মিয়া আম্বিয়া কে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু আম্বিয়া আবার স্বামীর সংসারে ফিরে আসা কে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেননি দেবর বাসির উদ্দিন ও তাদের পরিবারের লোকজন। কয়েক দিন পর বড় ভাই জজ মিয়ার অনুপস্থিতিতে ২০০২ সালের ২ মে গভীর রাতে দেবর বাসির উদ্দিন তার সহযোগীদের নিয়ে ঘরের সিট কেটে ঢুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ভাবী আম্বিয়া কে। এই ঘটনার পর দিন নিহত আম্বিয়ার চাচা কায়েস উদ্দিন বাদী হয়ে দেবর বাসির উদ্দিন সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কুলিয়ার চর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে কুলিয়ার চর থানা পুলিশ বাসির উদ্দিন সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৪ অক্টোবর চার্জশিট দাখিল করেন আদালতে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর মামলার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামি বাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন আদালত।