কিশোরগঞ্জে হত‌্যা মামলায় দুই ভাইসহ ৪ জনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন

মোবারক হোসেন: কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কিশোরগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক কর্মচারী আবদুর রহমান আমিন হত‌্যা মামলায় আদালত দুই সহোদর ভাই সহ ৪ জনের ফাঁসি ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়াও দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর (সোমবার) দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত প্রথম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- করিমগঞ্জ উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে কাশেম ও তার সহোদর ভাই নজরুল, একই গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে লিটন ও মৃত শুকুর মাহমুদের ছেলে ছাত্তার। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিংগুয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে খোকন, আব্দুল কাদিরের ছেলে সিরাজ উদ্দিন ওরফে সিরাজ, আব্দুল বারীর ছেলে কান্তু মিয়া ও আসনপুর গ্রামের মৃত চানফরের ছেলে শাহেদ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৩ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে করিমগঞ্জ উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের কিশোরগঞ্জ জেলা  গণপূর্ত বিভাগের সাবেক কর্মচারী আব্দুর রহমান আমিনের বাড়িতে আসামীরা ডাকাতি করার জন্য ঢুকে। এ সময় আব্দুর রহমান আমিন বাঁধা দিলে আসামিরা তাকে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তার স্ত্রী নূরুন্নাহারকেও ছুরিকাঘাত করে আসামীরা। পরে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুর রহমান আমিন কে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নূরুন্নাহার বাদী হয়ে ৮ জন নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৮ সালের ২৮ জানুয়ারি সিআইডির এএসপি রফিকুল ইসলাম ৮ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সময় মামলার সমস্ত আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত প্রথম জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন।

আলোচিত এই মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্র পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী মোঃ আবু সাঈদ ইমাম এপিপি এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অশোক সরকার।