কুড়িয়ে পাওয়া ফোন মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে হাসি ফুঁটালেন পুলিশ সদস্য ফখরুল

মাহফুজুর রহমান: রাত তখন ১:০৪ মিনিট।চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে মোবাইলের টুং-টাং আওয়াজ। গভীর-নিরব রাতে হঠাৎ এমন আওয়াজে দৌড়ে ছুটে যায় ডিসির বাংলোর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য মোঃ ফখরুল ইসলাম।

তার বিচক্ষণতায় ফোনটির প্রকৃত মালিক রিজওয়ান কাদের অয়নের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এরপর পরদিন বিকেলে তার উদারতার দৃষ্ঠান্ত দেখিয়ে সহযোদ্ধা পুলিশ সদস্য রবিউল ও মহিউদ্দিনের উপস্থিতিতে রিজওয়ান কাদের অয়নের নিকট কুড়িয়ে পাওয়া ফোনটি হস্তান্তর করা হয়।

ফোনটি হাতে পাওয়ার পর মালিক অয়ন জানায়, ঢাকা থেকে মামাতো বোনের জন্মদিনে যোগ দিতে গতরাতে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে আসি। পথিমধ্যে ফোনটি হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখোঁজি করি; কিন্তু কিছুতেই আমার গুরুত্বপূর্ণ মোবাইলটি ফোনটি পাচ্ছিলাম না। এতে করে, ব্যাপক ঝাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এসেও খুবই হতাশ ও অমলিন সময় কাটছিলো আমার। কারো সাথেই ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিলাম না। মন খারাপের তীব্রতা এতোটাই বেড়ে গিয়েছিলো যা ভাষাহীন।

হঠাৎ আমার মুখে হাসির দূত হয়ে এলেন উদারতার মূর্ত প্রতীক পুলিশ সদস্য ফকরুল ভাই। ফোনটি হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছি। আমি ফকরুল ভাইয়ের মতো বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি দায়িত্ববান সদস্যদের স্যালুট জানাই।সত্যিই পুলিশ বিভাগের উপর শ্রদ্ধা বেড়ে গেলো। জয় হৌক ফকরুল ভাই। জয় বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশ সদস্য রবিউল জানায়, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’। আমরা বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োজিত প্রতিটি সদস্য সর্বদা দেশ ও জাতির সেবায় নিয়েজিত থাকতে পেরে গর্ববোধ করি। পুলিশের খারাপ দিকটি সবাই দেখে, কিন্তু পুলিশ যে ভালো কাজ করে ফকরুল ভাই সেটির দৃষ্টান্ত। আমরা দেশ ও জনতার সেবক হয়ে থাকতে পারলেই খুশি।

এদিকে এমন সংবাদে ফোনটির মালিক অয়নের পরিবার ও বন্ধুমহল পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।