কৃষক পর্যায়ে তানোরে নূর মোহাম্মদের ক্ষেতে ৩৭ প্রকার ধান উদ্ভাবন

রুহুল আমীন খন্দকার: বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ একজন প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন কৃষক।তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অক্লান্ত পরিশ্রম ও একাগ্রতার সঙ্গে গবেষণা করে উদ্ভাবন করেছেন ধানের আউশ, আমন ও বোরো ধানের বিভিন্ন সারি। উদ্ভাবিত সারিগুলোর জীবনকাল অন্যান্য জাতের তুলনায় কম, উচ্চ ফলনশীল, সরু, সুগন্ধি ও খরা সহিষ্ণু।খরা প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চল ও বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে চাষের উপযোগী।

তিনি জাতের উন্নতি ঘটিয়ে ধানের জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন এতে ফসলে পানির প্রয়োজনীয়তা কম লাগে এবং ফসল বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। খরা পীড়িত বরেন্দ্র অঞ্চলে কীভাবে কম পানিতে কম সময়ে ধান কেটে ঘরে তোলা যায় এ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলামান রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে নিত্য নতুন প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করেন এবং এলাকার কৃষকদের মাঝেও নিত্য নতুন প্রযুক্তি বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

কৃষক পর্যায়ে ধানের নতুন নতুন সারি উদ্ভাবন করায় এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমে নতুন নতুন দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের ধানের অবস্থা তাদের নিজ এলাকায় দেখার সুযোগ পেয়েছে। তারা তাদের পছন্দের জাত সমূহ চিহ্নিত করে বীজও সংগ্রহ করতে পেরেছে। সে জন্য এলাকায় উফশী জাতের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হয়েছে। এলাকার কৃষকরা তার প্রযুক্তিতে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। খরা সহিষ্ণু সারিগুলোর জীবনকাল কম হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরুর আগেই ধান কেটে ঘরে তোলা যাবে। আগাম ওঠার কারণে সেচের খরচ কম হবে ভালো বাজার মিলবে। সে কারণে সারিগুলো বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য উপযোগী।

নূর মোহাম্মদ কৃষি পরিষেবা ফার্মে গবেষণা প্লটের ৩৭টি সারির মধ্যে এন.এম.কে.পি ১০৫-৫-২, এন.এম.কে.পি ১০৪-৪-৩, এন.এম.কে.পি ১০৩-৩-২-২ সুগন্ধিযুক্ত, ব্রিধান-৮১, জিরাশাইল জাতের ধান কর্তন করা হয়। কর্তন, মাড়াই ঝাড়াই শেষে শুকনা ওজনে এন.এম.কে.পি ১০৫-৫-২ সারি হেক্টর প্রতি ৯.৮ মেঃ টন বিঘা প্রতি ৩২ মন। এন.এম.কে.পি ১০৪-৪-৩ সারি হেক্টর প্রতি ৮.৯ মেঃ টন বিঘা প্রতি ২৯ মন। এন.এম.কে.পি ১০৩-৩-২-২ সারি হেক্টর প্রতি ৭.৯ মেঃ টন বিঘা প্রতি ২৬ মন। ব্রিধান-৮১ হেক্টর প্রতি ৮.৪ টন বিঘা প্রতি ২৮ মন। জিরাশাইল হেক্টর প্রতি ৭.৯ মেঃ টন বিঘা প্রতি ২৬ মন ফলন পাওয়া যায়।

এবারে ধান কর্তনের সময় উপস্থিত ছিলেন ড. আমিনুল ইসলাম, চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ও প্রধান ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী। হারুন অর রশিদ ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ব্রি রাজশাহী। তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো, উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম, তানোর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার রেহেনা পারভীন ও অত্র এলাকার কৃষকবৃন্দরা।