খ্যায়া না খ্যায়া বউ-ছোল নিয়্যা দিন কাটাবার নাগচি: ২ ব্যাচের উদ্যোগে উপহার সামগ্রী বিতরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: যেখানে একদিন কাম না করলে চুলাত হাড়ি ওঠেনা সেখানে প্রায় দুই মাস ধরি হাতোত কোন কাম নাই। খ্যায়া না খ্যায়া বউ-ছোল নিয়্যা দিন কাটাবার নাগচি। ম্যালা ট্যাকা সুদের উপরোত নিচি। তারা এখন ট্যাকার জন্যে চাপ দিচ্চে। ঠিকমতো পেট ভরি ভাত খাবার পাইন্যা।

এবার ঈদোত কি যে খামো তাও জানিনা। ট্যাকার অভাবে এখনো কিচু কিনি নাই। ছোট ছেলেমেয়েগুল্যা শুধু মুখের দিকে চ্যায়্যা থাকে। সরমোত বাড়ীত থাকব্যার পাইন্যা। কারো কাছে গেলে আর কেউ ট্যাকা ধার দেয় না। কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা জেলা শহরের আসাদুজ্জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শুক্রবার দুপুরে ঈদের উপহারসামগ্রী নিতে আসা বিভিন্ন এলাকার মানুষজনরা।

আসাদুজ্জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে গাইবান্ধার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০০২ সালের এসএসসির ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন, অসহায় ও দুস্থ ১৫০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব উপহারসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, আলু, বুটের ডাল, মরিচ, পেঁয়াজ, আটা, সেমাই, চিনি ও মিষ্টি কুমড়া।

গাইবান্ধা পৌরসভার মাস্টারপাড়া, মধ্যপাড়া, রেলকলোনি, ব্রীজ রোড, কদমতলা, হাসপাতাল রোড, তিন মাইল, সুখনগর, ফকিরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, থানাপাড়া, কলেজপাড়াসহ, খোলাহাটী ও বোয়ালী গ্রামের মানুষদের এসব খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ০২ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান চৌধুরী রিয়াদ, বাবু সোহেল, নাজমুল হুদা, সফিক সোমেল, তামজিদ হক্কানি, তানভির রাহিম, রয়েল মাহবুব, ফয়সাল আহমেদ নিঝর, মারুফ হাসান, মো. রায়হান, মো. কাঞ্চন ও শাহারুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে ১৬ মে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সমিতির বাজার এলাকায় কঞ্চিপাড়া নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার ৭ জনকে ও ১৭ মে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের তালুকরিফাইতপুর গ্রামের মাদরাসাতুল মাদানিয়ার ১২ জনকে ঈদের খাদ্যসামগ্রী ও কয়েকদিনের বাজার করে দেওয়া হয়। এছাড়া আরো কয়েক দফায় গাইবান্ধা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ১১১ জনকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয় ০২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে।

২০০২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, সবসময় অসহায় মানুষের পাশে শ্লোগাণে ২০১৯ সালের জুন থেকে বন্যা, শীতসহ বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি আমরা। এ পর্যন্ত করোনাকালীন এই সময়ে ২৮০টি পরিবারকে সহযোগিতা করতে পেরেছি। আগামীতেও যে কোন দুর্যোগে ও সমস্যায় অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাকিব হাসান রোজ।