গাইবান্ধায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত জায়গা সংরক্ষণের দাবি

রওশন আলম পাপুল, বিশেষ প্রতিবেদক : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজরিত ঐতিহাসিক একটি জায়গা লিজ দেওয়ায় তা বাতিল ও সংরক্ষণের দাবি উঠেছে।

এ নিয়ে জেলা প্রশাসককে লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঐতিহাসিক এই জায়গাটি সংরক্ষণ করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের দাবিতে মানববন্ধনও করেছে গ্রামবাসী। 

পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পলাশবাড়ীর বরিশাল ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামে বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো জায়গা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার (এসএএও) বাসভবনের ৭৩ শতাংশ জায়গার মধ্যে ৯ জনকে ৩৭ শতাংশ জায়গা লিজ দেওয়া হয় চলতি বছরের ১৬ মার্চ। এই ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, একই গ্রামের মো. ওহিদুল, রামপুর গ্রামের মুনছুর আলী, একই গ্রামের বাবলু মিয়া, আমিনুল ইসলাম, আনোয়ারা বেগম, এনতাজ আলী, ভগবানপুর গ্রামের সাহেব মিয়া ও সাইফুল ইসলাম ৯৯ বছরের জন্য এই জমি লিজ পান। এরপর লিজপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে দখলও করেন। 

কিন্তু লিজ দেওয়া এই জায়গায় ১৯৭০ সালের অক্টোবরে নির্বাচনী সফরে রংপুর যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রংপুর-২২ আসনের (বর্তমান গাইবান্ধা-৩ আসন) এমপিএ মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজার রহমান সরকারের বাড়ীতে বিশ্রাম নিয়েছিলেন ও খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন।

এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বাড়ীর সামনে বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে কয়েক হাজার মানুষের সামনে বক্তব্যও দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত ঐতিহাসিক এই জায়গাটি গোপনে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে পরিবারগুলোকে লিজ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্মৃতিবিজরিত এই জায়গা ও স্থাপনা এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথে। 

এ নিয়ে গত ৪ জুলাই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত এই জায়গায় মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে সহস্রাধিক গ্রামবাসী ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতিরক্ষা কমিটি। তারা জায়গাটি সংরক্ষণ করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের দাবি জানান। এ বিষয়ে গত ৭ জুলাই জেলা প্রশাসককে লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টির তদন্ত করতে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। 

ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত এই জায়গাটি সংরক্ষণের দাবি তোলায় গত ৭ জুলাই জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও আমাকেসহ ১৭ জন গ্রামবাসীকে বিবাদী করে পলাশবাড়ী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন জমি লিজপ্রাপ্ত ৯ জন। গ্রেপ্তারের ভয়ে হয়রানীমূলক এই মামলায় সাধারণ বিবাদীরা এখন ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। 

এমপিএ মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজার রহমান সরকারের বড় ছেলে প্রফেসর ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার বলেন, এখন যাদেরকে ঐতিহাসিক এই জায়গাটি লিজ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে অন্যত্র দেওয়ার মতো কোন খাস জমি না থাকলে নিজেরই জমি দেব। তারপরও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত ঐতিহাসিক এই জায়গাটিতে ট্রাষ্ট করে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান প্রফেসর ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার। 

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, খাস জমি ছিল বিধায় ৯টি পরিবারকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি আবেদনে জানা যায়, এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি আছে। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাদেরকে ঘরবাড়ী তুলতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা লিজপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদেরকে অন্যত্র জমি দেওয়া হবে। তবে তার আগে যাচাই করা হবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই জায়গায় এসেছিলেন কিনা। প্রমাণ পেলে বঙ্গবন্ধুর এই স্মৃতি রক্ষা করা হবে বলেও জানান ইউএনও। এ বিষয়ে প্রফেসর ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার বলেন, গাইবান্ধা-৫ আসনের বর্তমান সাংসদ ও ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, গাইবান্ধা-৩ আসনের সাবেক সাংসদ মো. তোফাজ্জল হোসেন সরকার ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।