গাইবান্ধায় শহরের প্রধান সড়ক ডিবি রোড সংস্কারের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান

রওশন আলম পাপুল: বিশেষ প্রতিবেদক: গাইবান্ধায় জেলা শহরের ডিবি রোডের বাস টার্মিনাল হতে পুরাতন বাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙ্গা সড়ক অবিলম্বে মেরামতের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর কবিরের হাতে সড়ক সংস্কারের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করে সৃজনশীল গাইবান্ধা নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও তারা জেলার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানের কাছেও এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।

সৃজনশীল গাইবান্ধা নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি মো. নিশাদ বাবু ও
সিইও মো. মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গাইবান্ধা
জেলা শহরের মধ্যে চলাচলের প্রধান ও একমাত্র সড়ক হলো ডিবি রোড। সম্প্রতি শহরের এই সড়কটি এসপি অফিস থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত ফোর লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার এসপি অফিসের সামনে থেকে গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আর রহমান ফিলিং স্টেশন
পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বাস টার্মিনাল হতে পুরাতন বাজার পর্যন্ত ফোর লেন নির্মাণ কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।

সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ও কার্পেটিং না করায় চলতি বর্ষা মৌসুমে এই ২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাস টার্মিনালে সোনালী ব্যাংকের সামনে, পলাশপাড়া মোড়, ফকিরপাড়া মোড়, ফকির পাড়া মসজিদের সামনে, সাদুল্লাপুর রোড মোড়, আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে,
পৌরপার্কের সামনে, পুরাতন জেলখানা মোড়সহ পুরো ২ কিলোমিটার সড়কে
অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যেখানে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও যানবাহন চালকগণকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাত্র ২ কি.মি. সড়ক পার হতে মাত্র ৫ মিনিটের জায়গায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের মত সময় ব্যয় হচ্ছে। এছাড়াও গর্তে জমে থাকা পানির উপর দিয়ে বড় যানবাহন পার হওয়ার সময় পানি ছিটকে অটোরিক্সা, রিক্সার যাত্রী, মোটরসাইকেল আরোহীর গায়ে লেগে পোশাক নোংরা হয়ে যাচ্ছে।

তারা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করেন, আপনি জেলার অভিভাবক। আমাদের জেলাবাসীর এরকম দুর্ভোগ লাঘবে আপনার সুদৃষ্টি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ডিবি রোড ফোর লেনের বাকি কাজ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ও কাজ চলাকালীন সময়ে ডিবি রোডকে চলাচলের উপযোগি রাখা ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট গর্ত ও খানা-খন্দ ভরাট করার জন্য গাইবান্ধা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার ও অন্যান্য দায়িত্ব বাহকগণকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতঃ আপাতত ডিবি রোডের (বাস টার্মিনাল থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত) ২ কি.মি. সড়ক চলাচলের উপযোগি করে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আপনার কার্যকরী ভূমিকা আশা করছি।

সড়কের বেহাল দশার ভোগান্তির শিকার তুর্য সরকার (২২) নামের মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, রাস্তায় খানাখন্দের কারণে ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। গর্তের পানি ছিটকে কাপড় নষ্ট হচ্ছে। সোহেল আকন্দ (৩৫) নামের অটোরিকশা চালক বলেন, ভাঙ্গা রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভাঙা সড়কে যেকোনো মুহুর্তে অটো উল্টে যেতে পারে, আমরা এমন শঙ্কা নিয়া গাড়ি চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে কাচারি বাজারে বিভিন্ন যানবাহন উল্টে যানবাহন ও ব্যবসায়ীক পণ্যের যথেষ্ট ক্ষতিও হয়েছে কয়েকজনের।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী
মো.আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলের কারণে আজ
সম্পূর্ন জেলাবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ফোর লেনের কাজের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। যার কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আর এ কারণেই সড়কের বেহাল অবস্থা। তিনি সড়কের বর্তমান অবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আগামি সপ্তাহের মধ্যেই রাস্তার সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়াও তিনি বর্তমান তরুণ সমাজকে সরকারের তথা দেশের কাজে এগিয়ে
আসার জন্য আহবান জানান। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর কবির জনদূর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এটি যত দ্রæত সম্ভব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দিবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন। স্বারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সৃজনশীল গাইবান্ধার সিইও মো.মেহেদী হাসান, সভাপতি মো. নিশাদ বাবু, সহ-সভাপতি আন্ধসঢ়; নাঈমী নিসা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শাকিল।