ঘরে নয় মাসের সন্তান রেখে করোনা যুদ্ধে তাড়াশের ইউএনও

(তাড়াশ) সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: নয় মাসের শিশু সন্তানকে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান। করোনা প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য তার কার্যক্রম সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য সরকারের নিদের্শনা মোতাবেক ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহানের নেতৃত্বে ১০ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার লক্ষে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে।

এছাড়া পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইউপি সদস্য, সচিব, উপজেলার কর্মকর্তা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে একটি করে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলার সকল জায়গায় মাইকিং, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ইমামদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নিয়মগুলোর আলোচনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সচেতনতার লক্ষ্যে উপজেলার প্রত্যেক বাজারে লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানার দেয়া হয়েছে। সেনাসদস্য ও পুলিশ সাথে নিয়ে জনসমাগম এড়ানো ও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিনমজুর, গরিব ও দুস্থদের মধ্য চাল, আলু, ডাল, চিনি, আটা ও সাবান পৌঁছে দিচ্ছেন। বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগম এড়ানোর জন্য যে জায়গা থেকে যখনই মোবাইল আসছে, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ব্যবস্থাগ্রহণ করছেন। কখনও তিনি নিজে জায়গায় উপস্থিত হচ্ছেন, তা নাহলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত মাইকিং করে জনগনকে সকল প্রকার গণজমায়েত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করছেন। প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ এবং যত্রতত্র বাজার, মোড় বা দোকানে অযথা আড্ডা বা বসে এবং যে কোন ধরনের খেলাধুলা করা নিষেধ।

চায়ের স্টলসহ যে কোন ধরনের দোকানে টিভি ও বসার বেঞ্চ সরিয়ে রাখা একং দোকানে সামনে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ রাখতে হবে। এ সকল নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলার সচেতন বাসিন্দারা জানান, একজন কাজ পাগল মানুষ ইফফাত জাহান। নয় মাসের শিশু সন্তানকে বাড়ি রেখে সরকারের নির্দেশনা মেনে সাধারণ মানুষের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি নিজে ফিল্ডে কাজ করছেন- আবার কে কোথায়, কিভাবে কাজ করছে তার সার্বিক তদারকি করছেন। ইউএনও’র এমন নিরলস কাজ করায় উপজেলার জনসাধারণ খুবই খুশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান বলেন, আমার কাছে দায়িত্ব অনেক বড়। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমি চাই তাড়াশ উপজেলা করোনা ভাইরাস মুক্ত থাকুক। এজন্য আমাকে উপজেলার সকল নাগরিককে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।