চাঁদপুরের নৌ পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ইউপি মেম্বার রনিকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ

প্রধান প্রতিবেদকঃ চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে নৌ পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী পারভেজ গাজী রনি মেম্বারকে আটক করেছে নৌ পুলিশ।

৩০ নভেম্বর সোমবার দুপুরে আটক পারভেজ রনিকে নৌ পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করেন।নৌ পুলিশের উপর হামলা ও নদীতে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীসহ সকল অপকর্মের হোতা এই বিতর্কিত মেম্বার পারভেজ রনিকে আটক করায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে মাল বোঝাই ট্রলার ও বলগেট থেকে চাঁদাবাজি করার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে মেম্বার পারভেজ রনির নেতৃত্বে এলাকার মহিলাসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। সেই ঘটনায় পারভেজ রনিকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে হামলায় আহতদের পরিবার জানিয়েছেন।

গত ২৯ নভেম্বর রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ হাকিম প্লাজা মার্কেটের সামনে থেকে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ পারভেজ গাজী রনিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নৌ থানা পুলিশ আটক করেছে।নৌ থানা পুলিশের ওসি জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রনিকে আটক করে শহরের ট্রাকঘাটস্হ নৌ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে রাতে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে রাখা হয়।

নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন সাকদার জানান, নৌ পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি পারভেজ গাজী রনি এজাহারভুক্ত ও হুকুমের আসামি। তাকে হাকিম প্লাজা মার্কেটের সামনে থেকে আটক করা হয়েছে।
আগামী দিন তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান।

রাজেশ্বরী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, বিতর্কিত পারভেজ রনি গাজী ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হওয়ার পর থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।তার বাড়ির লোকজনের নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে নদীতে স্পিডবোট নিয়ে চাঁদাবাজি ও অভিযানের সময় জাটকা এবং মা ইলিশ পাচার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যারা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে হামলা চালিয়ে আহত করেছেন।

এই বিতর্কিত মেম্বার পারভেজ রনির বিরুদ্ধে গরু চুরি, ডাকাতি, নারী ধর্ষণ, পুলিশের উপর হামলা সহ অগণিত মামলা আসামি হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এত মামলার আসামি হয়ে মডেল থানা পুলিশ তাঁকে না ধরলেও অবশেষে নৌ-পুলিশের চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা ওসি জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রনিকে আটক করা হয়েছে।
রিমান্ডে নিয়ে এই সন্ত্রাসী পারভেজ রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সাথে জড়িত সহযোগীদের নাম এক একে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।