চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বরে মামলার সাক্ষীদেরকে কুপিয়ে জখম করলো বিবাদীরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ থানায় মামলা দেয়াতে সাক্ষীদেরকে মারাত্মকভাবে জখম করেন বিবাদীরা। চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে লক্ষীরচর বাজারে এমনটি ঘটেছে বলে জানা যায়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায় চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীরচর বাজারে দুলাল মাঝি (৪২) কাপড়ের ব্যবসা করত। ১৯ মে দুপুর ২ ঘটিকায় একই এলাকার ইসমত আলী (২৩) ফয়সাল গাজী (২৫)শরাফত আলী গাজী (৫০) গংরা দুলাল মাঝি কে দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে দুলাল মাঝির দোকানের সামনে তাকে ইসমত আলী (২৩), ফয়সাল গাজী (২৫), শরাফত আলী গাজী (৫০) গংরা এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করে, সেই সাথে দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ পাঁচ লক্ষ এক হাজার দুই শত টাকা, ৫০ টি থ্রি-পিস, ৪৫ টি শাড়ি কাপড়, ৫০০ গজ থান কাপড়, ৬০ টি লঙ্গি দোকান থেকে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আশেপাশের মানুষ দুলাল মাঝি কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক ভর্তির নির্দেশ দেয়।

উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুলাল মাঝির সহধর্মিনী সোহাগী বেগম (৩৫), ২২ মে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ইসমত আলী (২৩), ফয়সাল গাজী (২৫),শরাফত আলী গাজী (৫০), সোহেল গাজী (২৩), আক্তার মাঝি (৩০) ওসমান গাজী (৬৫) সহ অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জনকে মামলা দায়ের করে। মামলা নাম্বার ১৯।

এবিষয়ে দুলাল মাঝি জানান আমার স্ত্রী সোহাগী বেগম ৬ জনকে আসামি করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা দায়ের পর মডেল থানার এসআই মোমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে ২৮ মে সকালে তদন্ত করে যায়। এতে করে আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মামলায় উল্লেখিত সাক্ষীদেরকে ঐ দিন বিকাল ৪ ঘটিকায় লক্ষীচর বাজারে ব্যাপক মারধর সহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।মামলায় উল্লেখিত ৭নং সাক্ষী নুর মোহাম্মদ বকাউল কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাৎক্ষণিক তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার মারাত্মক অবস্থা দেখে সাথে সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঐ এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার আলী বকাউল বলেন মডেল থানার এসআই সকালবেলা মামলাটি তদন্ত করতে আসে। সেদিন বিকেল বেলায় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে করে নুরমোহাম্মদ বকাউল গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এতে করে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয় বলে তিনি জানান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি জের ধরে থানায় মামলা করা হয়।মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তীতে তাদের মাঝে আবারো মারামারি হয়। এতে করে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।