চাঁদপুরের স্বপ্নবাজ তরুণ এক চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক: কথায় আছে ‘পরিশ্রম হলো সাফল্যের মূল চাবি-কাঠি। লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং সঠিক পরিশ্রম থাকলেই যে কোনো কঠিনকে জয় করা যায় সহজেই।

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, একজন সাংবাদিক ও তরুণ চ্চিত্র নির্মাতা। চাঁদপুরের স্বপ্নবাজ তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদ হোসেন অপুও তাঁর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে হেঁটে চেলেছেন সাফল্যের পথধরে। সে স্বপ্ন দেখে এবং সেটি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে ঘামঝড়ানো পরিশ্রম করে।

উদীয়মান এই সাংস্কৃতি কর্মী মিডিয়া পাড়ায় পা রাখা সেই ২০১২ সালে। তাঁরপর নিজের প্রতিষ্ঠিত অপু মিডিয়া জোন এর ব্যানারে এ পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন একে একে ৩৫ টির মতো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা সর্টফ্লিম। এসব স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন উদিয়মান নতুন মুখ থেকে দেশের জনপ্রিয় অভিনেতারা। তাঁর বেশকিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ইতিমধ্যে অভাবনীয় জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি মূলত সমাজসচেতনতামূলত গল্প নিয়ে কাজ করেন। পাশাপাশি রোমান্টিক এবং কমেডি ধর্মী গল্প নিয়েও বেশ কিছু কাজ করেছেন। এসব চলচ্চিত্রগুলোর চিত্র ধারণ করা হয় ঢাকা, চাঁদপুর এবং পুবাইলসহ বিভিন্ন জেলায়। তাঁর রয়েছে দক্ষ একটি সুটিং টিম।

সাইদ হোসেন অপু প্রযোজিত এবং পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা সর্টফ্লিমগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘মা আমার মা’। এরপর এক পৃথিবীর প্রেম, ভালোবাসার ছোঁয়া, ফিরে তাকাই, পারফিউম, দূরন্ত প্রেম, অপূর্ণ ভালবাসা, মাইনকা চোরা, জোর করে ধর্ষণ, দেবর ভাবীর পরকীয়া, মায়ের বুকে চাপা কান্না, পোচ পাস ম্যাডাম, মহাব্যাস্ত, অবহেলিত হিজড়া, স্বামী বিদেশ, বিবেক, বিয়ে পাগল, বাবার কষ্ট, চোর প্রেমিক, জেদী পোলা, ডিগ্রি ডাক্তার, গরিবের রোজা, বেয়াদপ জামাই, কষ্টে ভরা ঈদ, কিপ্টা বাবা, স্বপ্ন পূরণ, ডিজে পোলা, ইসলামের দাওয়াত, গল্পটি ঈদের নয়, অভিশপ্ত কিস্তি, প্রবাসী বউয়ের কষ্ট। এই গল্পগুলোতে অভিনয় করেছেন, জনপ্রিয় অভিনেতা সংশোধন চলচ্চিত্র নির্মাতা রাসেল মিয়া, চলচ্চিত্র অভিনেতা বরিশালের বাদল শিকদার ও টিভি নাট্য অভিনেত্রী হাঁসি মুন। প্রায় সকল চলচ্চিত্রগুলো তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল অপু মিডিয়া জোনে রিলিজ দেয়া হয়।

সাঈদ হোসেন অপুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সামনে বেশকিছু নতুন গল্প নিয়ে কাজ করছেন তিনি। আগামী মাসের শেষের দিকে একাধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের কাজ শুরু করবেন। এগুলো হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে মা, হিন্দি আলম, ঠকবাজ, ভেজাল মফিজ, দৃষ্টিকোন, অন্ধ ভিক্ষুক, কিডনি চক্র, খাইছি ধর প্রেম কইরা, ইজ্জত আলীর বিদেশী বউ, থাপ্পর ও জাগ্রত বিবেক। এতে কমেডি কিং হারুন কিসিঞ্জার ও মিডিয়া পাড়ায় আলোচিত মুখ হিরো আলমকে সম্পৃক্ত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমাকে এই কাজগুলোতে সহযোগিতা করেছেন বিভিন্ন জেলার স্ক্রিপ্ট রাইটার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক এবং শুভানুধ্যায়ীরা। সবাই আমাকে বিভিন্ন পরামর্শ এবং অর্থনৈতিকভাবেও সহযোগিতা করেছেন। আমার এই নির্মান কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আগামীতে মানসম্মত ,সামাজিক ও শিক্ষামূলক ভালো কাজের মাধ্যমে মিডিয়া পাড়ায় স্থান করে নিতে চান তিনি। এজন্যে তিনি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।

উল্লেখ্য : তরুণ নির্মাতা সাইদ হোসেন অপু সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি চাঁদপুর মেঘনা থিয়েটারের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য , বি ভয়েজ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহ-সভাপতি অনন্যা নাট্যগােষ্ঠীর সদস্য , তারুণ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । তিনি স্বপ্নকুড়ি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, বীর মুক্তিযােদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, নতুন কুঁড়ি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং বর্ণমালা থিয়েটারের একজন সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রযোজনা এবং পরিচালনার পাশাপাশি নিজেও অভিনয় করে থাকেন।