চাঁদপুরে কিছু সাংবাদিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনপ্রতিনিধি নিয়ে কিছু কথা: খোলামত

বিডিসিন২৪ খোলামত : প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিই কেউ লাখ লাখ আবার কেউ  হাজার হাজার জনগণের নেতৃত্ব দেন। জনগণের মধ্যে সমাজের বিত্তশালীও কম নয়। সমাজে শুধু জনপ্রতিনিধির একাই দায়ভার নয়, তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আহ্বান করতো না, বিত্তবানরা অসহায়দের পাশে দাঁড়ান।

চাঁদপুরে প্রায় একমাস হল ‘লকডাউন’। আজকাল যে ভিক্ষা করে তার ঘরে ও প্রায় ছয় মাসের খাবার থাকার সক্ষমতা আছে । যে দেশে শ্রমিকের মজুরি দৈনিক ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, আর ড্রাইভার এর মজুরি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

আর ৫০ কেজি ওজনের চাউলের বস্তা ছিল ১৩০০- ১৭০০ টাকা (দুর্যোগের কারণে এখন একটু বেশি)। তাহলে ভাবেন তো?

মাত্র ৪ দিন কাজ করলেই এক মাসে খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। সেকারণে বলবো একান্তই নেহায়েত ২/৪ জন মারাত্মক সমস্যায় থাকতেই পারে। আর তাদের জন্যই সরকার প্রাথমিকভাবে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে  ত্রাণসামগ্রী দিয়েছেন।
যখন দীর্ঘ সময় এ অবস্থা চলতে থাকলো, তখন  কর্মহীন ও মধ্যবিত্তদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারস্বরূপ সহযোগিতা সাধ্যমত দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ডাটাবেজের কারণে হয়তোবা কেউ একসাথে পেয়েছেন তিন দিক থেকে বা একই করে পেয়েছেন তিনজন সদস্য।

অপরদিকে কেউ আছেন শূন্য অবস্থায়, তাদের অবস্থায়ই মারাত্মক হতে পারে। যেসব দিক থেকে খাদ্য সামগ্রীর সহায়তা দেয়া হচ্ছে নিম্নে কিঞ্চিৎ তার বর্ণনা দিলাম:

১. স্থানীয় সংসদ বা বা মন্ত্রী
২. জেলা প্রশাসন
৩. জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান
৪ পুলিশ প্রশাসন
৫.পৌর মেয়র
৬.উপজেলা চেয়ারম্যান
৭. উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান
৮. পৌর কাউন্সিলর গান
৯. ইউপি চেয়ারম্যান
১০. ইউপি মেম্বারগন

এছাড়াও চাঁদপুর পৌরসভার সদ্য নমিনেশন প্রাপ্ত নেতৃবৃন্দগন নিজস্ব অর্থায়নে সাহায্য-সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিত্তবানগন খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু সাংবাদিক বন্ধুগণ ঢালাও ভাবে বলেন ওমকে পাইনি তমকে পায়নি, তাহলে এত জনের দেওয়া খাদ্য সামগ্রীগুলো পেলো কারা? বা গেলো কোথায়? আসমান থেকে তো এলিয়েনরা এসে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যায়নি।

আমার জানা মতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে স্ব স্ব থানার অফিসার ইনচার্জগন তাদের ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে এ সহয়তা প্রদান করে চলেছেন। অবশ্যই সকলেই সাধ্যমত খাদ্য সহায়তা দিয়ে চলেছেন। এটি ঈদ সামগ্রী নয়, যে বছরে একবার দিলেই হবে, মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক, দিয়ে চলেছেন সকলেই । তাহলে সাংবাদিক বন্ধুগণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনুরোধ করবো কেউ যেন ঢালাওভাবে লিখে, আমাদের এই করোনা যুদ্ধের অর্জনকে ম্লান করে না দেয়।

নিশ্চয়ই এটি মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তিনি গাফুরুর রাহিম, নিশ্চয়ই তিনি আমাদের ক্ষমা করবেন।

আমি দেখেছি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব তাফাজ্জল হোসেন (এসডু) পাটওয়ারী অষ্টমবারের মতো শত শত লোকের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে। পৌর মেয়র নাছির উদ্দিনসহ সদ্য মনোনীত মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েলও দুর্যোগকালীন সময়ে অসহায়দেরকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

চাঁদপুর ১নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি, ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান দর্জি,১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আলমগীর গাজী, ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটওয়ারী দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ডেকে খোঁজখবর নিয়ে অসহায় ও মধ্যবিত্তদের তালিকা করে দুর্যোগকালীন সময় খাদ্য সহায়তা দিয়ে চলেছেন।

এছাড়াও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী বেপারী,জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা সহ সহ আরো অনেকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে চলেছেন নীরবে-নিভৃতে ভাবে।

অ্যাড. আব্দুল হান্নান কাজী, ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল এমন অনেক ব্যাক্তিপর্যায় সহ এতো লোকের মাধ্যমে দেয়ার পরও  যদি কেউ নাওই পায় তাহলে বলবো পেলো কারা? সেজন্য বলি বিশাল এই জনসংখ্যার দেশে, সকলকে দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব হয়তো হবেনা।

কারণ সহায়তা করা আর দায়িত্ব গ্রহণ করা এক কথা নয়। সরকারের একার পক্ষে সকলের খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। সে জন্যেই  বলেছিলাম, সাগরের পানি সিঁচে শেষ করা যাবেনা।

আমার এই ক্ষুদ্র লেখনীতে কোন প্রকার ব্যত্যয় থাকলে, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল এবং আতপনাদের পরামর্শের প্রত্যাশায় রইলাম।

প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীন
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা (বামাস), চাঁদপুর জেলা শাখা।