চাঁদপুরে ব্যবসায়ী নারায়ণ ঘোষ হত্যার প্রধান আসামি রাজু আটক

ডেস্ক রিপোর্ট: চাঁদপুরে আলোচিত ব্যবসায়ী নারায়ন ঘােষকে জবাই করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত প্রধান অসামি সেলুন কর্মচারি রাজু চন্দ্র শীল (৩০) কে আটক করেছে ঢাকার সিআইডি। একাধিক প্রক্রিয়ায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে সিআইডি’র (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) একটি বিশেষ টিম তাকে সিলেট শহর থেকে আটক করে।

আটকের পর আলোচিত এই খুনের রহস্যও উন্মােচন করেছে সিআইডি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত রাজু জানিয়েছে, পাওনা টাকার লেনদেনের জেরে এই হত্যাকাণ্ড। মামলার প্রধান আসামি রাজু চন্দ্র শীলকে আটকের পর হত্যাকান্ডের বিস্তারিত তথ্য জানতে পারে।

সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সিআইডি নজরে আসে। এরপর ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, আসামি স্বীকার করেছে টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করেই সে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।

আটক রাজু চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ বাজারের টিপটপ সেলুনের কর্মচারী ছিল। সেই সেলুনেই গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ব্যবসায়ী নারায়ন ঘােষকে হত্যা করা হয়। পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর সকালে বাজারের পাশে একটি স্টিল ওয়ার্কশপের সামনে থেকে নারায়ন চন্দ্র ঘােষের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত নারায়ন ঘােষ শহরে ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বহু বছর ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন দোকানে দই-মিষ্টি বিক্রয় করে আসছিলেন। ঘটনার দিন রাতে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তিনি অভিযুক্ত রাজু চন্দ্র শীলের কাছে যান। এরপরই তাকে হত্যা করা হয়।

বিপনীবাগ বাজারের নৈশপ্রহরী মাে. ইসমাইল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রীকৃষ্ণের মালকানাদিন টিপটপ সেলুনের কর্মচারী রাজু চন্দ্র শীলকে রাত ১টায় সাটার খুলে পানি দিয়ে দোকান পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তখন তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় যে, ধর্মীয় উৎসব থাকার কারণে দোকান পরিষ্কার করছে। একপর্যায়ে সে সেলুন থেকে একটি বস্তা টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং বস্তাটি বিপনীবাগ মার্কেটের
পশ্চিম পাশে শরীফ স্টিল ও পানির পাম্পের স্টাফ রুমের পূর্ব পাশের গলির ভেতর ফেলে রেখে পুনরায় দোকানে ফিরে আসে। এবারও তাকে জিজ্ঞাস করা হলে রাজু শীল জানায়, দোকান পরিস্কার করতে পুরাতন জামা-কাপড়সহ অন্যান্য ময়লা জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছে।

সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ও পিবিআই এর কয়েকটি টিম। তারা সেলুনের মেঝেতে রক্ত মাখা পানি, দেয়ালে, চেয়ারের কভারে, মেঝেতে, বালতির মধ্যে রক্তের দাগ দেখতে পান। এই ঘটনার পর থেকে আসামি রাজু চন্দ্র শীল পলাতক হয়।

এদিকে ওই রাতেই রাজু চন্দ্র শীলকে প্রধান এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামী করে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের ছোট ছেলে রাজু ঘোষ। যার নং- ৩০, তাং ১৬/৯/২০২১। নিহত নারায়ন ঘোষ শহরের ঘোষ পাড়ার মৃত যুগলকৃষ্ণা ঘোষের ছেলে। দাম্পত্য জীবনে নারায়ণ ঘোষের ২ ছেলে ও ১ কন্যা সন্তান রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আসামী রাজু চন্দ্র শীলকে ঢাকা থেকে চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।