চাঁদপুরে যুবকের টানা ধর্ষণে প্রতিবন্ধী যুবতী ৮ মাসের অন্তঃসত্বা: বিচার চেয়ে ঘুরছেন অসহায় পিতা

স্টাফ রিপোটার : চাঁদপুরের ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চরফতেজংপুর গ্রামে নাছির খান নামের এক যুবক কর্তৃক কয়েক মাসের টানা ধর্ষণে ২২ বছর বয়সী এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতী ৮ মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতিবন্ধী যুবতীর পিতা।

প্রতিবন্ধী যুবতীর পিতা জানায়, তার ২২ বছর বয়সী কন্যা অনেকটাই হাবা ,গোবা ও সহজ সরল, একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। যুবতীর মা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খানের বাড়িতে কাজ করেন, এবং তিনি দিন মজুর হওয়ায় কাজে কর্মে চলে গেলে তাদের ঘরে ওই প্রতিবন্ধী যুবতী একাই ঘরে থাকতেন। এ সুযোগে একই এলাকার ওচমান খানের ছেলে নাছির খান সকলের অগোচরে তার মেয়েকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষন করে এসেছেন।

কিন্তু এতদিনে তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ধীরে ধীরে যখন তার মেয়ে গর্ভাবর্তী হলো তখন মানুষের কানাগোশা দেখে তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানতে পারেন এ ধর্ষণ এবং গর্ভধারনের কথা। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত নাছির খান ও তার স্বজনরা তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলেও তাদের অভিযোগ।
প্রতিবন্ধী যুবতী জানায়, আমি যখন ঘরে একা থাকতাম নাছির খান ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আমার মুখ চেপে ধরে খারাপ কাজ করতো। তারপর সে দা দেখিয়ে বলতো আমি যদি কাউকে বলি তাহলে আমাকে কেটে ফেলবে বলে ভয় দেখাতো। এজন্য আমি ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি।

ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মেয়েটির মা আমার বাড়িতে কাজ কর্ম করে এবং মরিচ তুলে কোন রকম সংসার চালায়। সে যে ৮ মাসের গর্ভবতী এ ঘটনা জানতে পেরে আমরা তার মুখে নাছির খানের নামটি শুনেছি। পরে নাছির খান আমার কাছে আসলে তাকে জিজ্ঞেস করলে এমন ঘটনা সে করেনি বলে আমাদেরকে এরিয়ে চলে যায়। পরে আমি তাদেরকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি এবং আমার ইউনিয়নের একজন গ্রাম পুলিশকে দিয়ে তাদেরকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, আমি যতটুকু জানি মেয়েটি অন্তঃসত্বা অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে তার মেডিকেল রির্পোট আসলে আমরা বাকিটা নিশ্চিত হবে এবং পরবর্তী বিষয় গুলো জানতে পারবো।
চাঁদপুর মডেল থানার এস আই মোবারক হোসেন জানান, এরকম ঘটনার অভিযোগ এনে প্রতিবন্ধী মেয়ের পিতা চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। সেই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পড়েছে আমার উপর। আমি এখনো তদন্তে যায়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার আসল সত্যতা জানা যাবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির খানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ধর্ষন এবং অন্তঃসত্বার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন ঘটনা আমি ঘটায়নি। তাদের সাথে আমাদের পথ চলাচল নিয়ে ঝগড়া রয়েছে। তারা ষঢ়যন্ত্রমূলক ভাবে আমার ওপর এ ঘটনার দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। এলাকায় এ ঘটনা জানা জানি হলে ফয়সাল নামের এক যুবক এলাকার মানুষের কাছে স্বীকার করেছে যে সে ওই প্রতিবন্ধী যুবতীর সাথে খারাপ কাজ করেছে। এর প্রকৃত পরীক্ষা হলেই আসল অপরাধী কে তা জানা যাবে।