চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারে বিষ খাবিয়ে ব্যবসায়ীর ৮০টি মুরগি হত্যার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর পৌর ১৩ নং ওয়ার্ড ওয়ারলেস বাজারের সুনামধন্য মুরগি ব্যবসায়ী মোঃ জহিরুল ইসলাম গাজীর ব্যবসায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একই বাজারের আরেক মুরগি ব্যবসায়ী রাতের আধারে মুরগির খাবারের সাথে বিষ প্রয়োগ করে ৮০ টিরও অধিক মুরগি হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মোঃ জহিরুল ইসলাম গাজী তার দোকানে থাকা মৃত মুরগি গুলো নিয়ে কান্নাকাটি করতে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে ওয়ারলেস বাজারে আমি ও আমার ছেলে মোহাম্মদ বশির গাজী সুনামের সাথে মুরগির ব্যবসা করে আসছিলাম। আমার মুরগির দোকানের উত্তর পাশে আরেকটি মুরগির দোকান গড়ে উঠলেও আমরা সুশৃংখলভাবে ব্যবসা করে আসছি লাম। হঠাৎ করে কয়দিন আগে মতলব মুন্সিরহাটের রায়হান নামে বকাটে এক লোক দোকান ভাড়া নিয়ে আমার দোকানের সামনে মুরগির ব্যবসা দিয়ে বসে।

আমরা এখানকার স্থানীয় ও ১৫ বছর ব্যবসা করার কারণে মুরগি ক্রেতাগণ আমার পূর্ব পরিচিত। তাই দিনব্যাপী আমাদের দোকানে মুরগির ভালো একটা সেল হত। আমাদের ব্যবসা ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার দোকানের সামনে দোকানদার রায়হান তার কর্মচারী আকাশকে লেলিয়ে দিয়ে আমার ব্যবসায় ক্ষতির চেষ্টা করে।

আরো পড়ুন:

আমরা বাজার মুরগি ব্যবসায়ীরা যে দামে আমাদের মুরগি গুলো বিক্রি করি রায়হান তার কর্মচারী আকাশ ও আরো দুই একজন সহযোগী নিয়ে চিৎকার করে আমাদের বিক্রয়মূল্য থেকে আরো ২০ টাকা ৩০ টাকা কম মূল্যে তারা মুরগি বিক্রি করে বলে ক্যাম্পিং করে। মাঝে মাঝে আমাদের দোকানের কাস্টমারদের কে জড়িয়ে ধরে তাদের দোকান থেকে মুরগী কিনতে বাধ্য করে।

সর্বশেষ সোমবার রাতে আমাদের মুরগিগুলো সুস্থ ও সবল রেখে দোকান বন্ধ করে পূর্বের ন্যায় যথাযথ নিয়ম মাফিক বাড়ি ফিরে যাই। এই সুযোগে সোমবার রাতের আধারে রায়হান ও তার কর্মচারী আকাশের যৌথ মাস্টার প্লেন করে মুরগির খাদ্যের সাথে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে দেয়। মঙ্গলবার সকালে দোকান খুলে দেখি যে মুরগি গুলো কেমন জানি অসুস্থ বোধ করছে এবং নীল ও কালো রং ধারণ করে মরে যাচ্ছে।

এদিকে মোঃ জহিরুল ইসলাম এর মুরগির পর্যায়ক্রমে মরে যাচ্ছে দেখে নতুন মুরগির দোকানদার রায়হান ও তার কর্মচারী আকাশ দুপুরের দিকে তাদের দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ রাত ৯ টা পর্যন্ত দেখা যায় যে মোঃ জরুল ইসলাম গাজীর মুরগীর দোকানের ৮০ টিরও অধিক মুরগি মৃত্যুবরণ করে।

এ বিষয়ে ওয়ারলেস বাজারের আরো কয়েকজন মুরগি ব্যবসায়ী বলেন এ মুরগি গুলো যদি রোগে মারা যেত তাহলে আমাদের গুলোও মারা যেত। কারণ আমরা সবাই একই ব্যক্তির নিকট থেকে পাইকারিতে মুরগি কিনে বিক্রি করি। আমরা নিশ্চিত যে এই মুরগী গুলোকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদেরকে তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।