চাঁদপুর সরকারী হাসপাতালে সেবা থেকে বঞ্চিত জনগণ

সাইফুল ইসলামঃ আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ বেশ ক’টি বিভাগের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। চক্ষু বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ক’টি বিভাগে অনেকদিন যাবৎ চিকিৎসক না থাকায় এসব বিভাগ থেকে রোগীরা কোনো সেবা নিতে পারছে না।

অনেক দূর থেকে রোগীরা এসে ফেরৎ যাচ্ছে চিকিৎসা না নিয়েই। জেলার সর্ববৃহৎ হাসপাতালের এমন অচলাবস্থার কারণে মানুষ হতাশ। বছর খানেক যাবৎ যদি জেলার প্রধান একটি হাসপাতালের চক্ষু চিকিৎসা, আলট্রাসনোগ্রাম, ভিকটিমের বয়স নির্ধারণসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ থাকে, সেখানে স্বভাবতই মানুষের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। আবার এই হতাশায় সৃষ্ট ক্ষোভ গিয়ে পড়ে সরকারের উপর।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উপরে অনেকবার প্রতিবেদন দিয়েছে, এখনো দিচ্ছে। কিন্তু নিয়োগ হচ্ছে না। এর কোনো কারণও তারা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না। ‘সহসা নিয়োগ হবে’ এমন আশ্বাস তারা এ প্রতিবেদককে দিয়েছেন।

আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল শুধু চাঁদপুর জেলাবাসীই নয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষও এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। যার কারণে এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগ এবং ভর্তিসহ (আউটডোর ও ইনডোর) হাজারের উপরে রোগী হয়। আর এতো সংখ্যক রোগীকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক চিকিৎসকসহ লোকবলকে। এমনিতে হাসপাতালটি আড়াইশ’ শয্যার কাগজে কলমে হলেও এর অবকাঠামো এবং লোকবলসহ সব কিছুই চলছে দুই শ’ শয্যার হিসেবে। এ অবস্থার মাঝেও চিকিৎসক সঙ্কট থাকে প্রায় সময়ই।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং মেডিকেল অফিসার নেই প্রায় বছর খানেক হয়। যার কারণে হাসপাতালে চক্ষু রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ সময় যাবৎ। একই অবস্থা রেডিওলজি বিভাগের। এই বিভাগেরও জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং রেডিওলজিস্ট নেই প্রায় এক বছর যাবৎ। যে কারণে এ হাসপাতালে দীর্ঘ এক বছর যাবৎ আল্ট্রাসনোগ্রাম বন্ধ। এছাড়া ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটলে ভিকটিমের বয়স নির্ধারণসহ যৌন বিষয়ে রিপোর্টও এ হাসপাতাল থেকে দেয়া যাচ্ছে না। তখন ভিকটিমকে কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠাতে হয়। এমন এক নাজুক অবস্থায় চলছে এ হাসপাতালটি। এখানেই শেষ নয়।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগে সিনিয়র কনসালটেন্ট নেই প্রায় এক বছর যাবৎ। গাইনি বিভাগে শুধু জুনিয়র কনসালটেন্ট রয়েছেন একজন। তাঁকেই সামাল দিতে হচ্ছে গাইনি রোগীদের। এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া, অর্থোপেডিঙ্ এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, প্যাথলজি, ডেন্টাল, সহকারী রেজিস্ট্রার ও সার্জন চারটি পদ, বিষয় ভিত্তিক মেডিকেল অফিসার চারটি পদ, সেবা তত্ত্বাবধায়ক, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক, স্টাফ নার্স পাঁচটি পদসহ মোট ৫৫টি পদ শূন্য রয়েছে অনেকদিন যাবৎ। এই ৫৫ জনের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসকসহ মঞ্জুরিকৃত ৬৫ পদের বিপরীতে ২২ টি পদই শূন্য অবস্থায় আছে।

হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগসহ সার্বিক জনবল সঙ্কট বিষয়ে কথা হয় হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ একেএম মাহবুবুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, আমি এ হাসপাতালে যোগদান করেছি অল্প ক’দিন হলো। এ সময়ের মধ্যেও আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দুইবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছি। তবে সহসা নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।