জননেতা মাদার বখশ’র স্মরণসভায় বক্তারা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার আহবান

রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান : সমাজসেবার পেশা হলো রাজনীতি। সমাজসেবা ছাড়া রাজনীতি হয় না। সমাজসেবার সাথে রাজনীতি জড়িত। সোমবার ২০শে জানুয়ারি ২০২০ ইং বিকেলে রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রতিষ্ঠাতা, অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের শিক্ষাবিস্তারের অন্যতম অগ্রদূত জননেতা মাদার বখশের ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই কথাগুলো বলেন।

এসময় বক্তারা বলেন, মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই হলো রাজনীতির মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য। এখনকার রাজনীতিবিদরা স্বার্থপর হোয়ে গিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে দুর্নীতি করছে। দুর্নীতি ঢাকতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরি হচ্ছে। আগেকার নেতারা জনগনের জন্য রাজনীতি করেছেন। জননেতা মাদার বখশ স্বার্থবিমুখ, অসাম্প্রদায়িক, স্বাধীনচেতা ও ত্যাগী এক দুরদর্শি রাজনীতিবিদ ছিলেন। একজন মাত্র নেতা যিনি একাই ১০ হাজার মানুষকে স্বাবলম্বি করেছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষা-চিকিৎসা- প্রশাসনে সর্বত্র দুর্নীতিতে জর্জরিত। সমাজ দূষিত হলে কোনো পেশা আর ভাল থাকে না। দেশ দুর্নীতিমুক্ত হচ্ছে না, প্রধানমন্ত্রীকে আবারও শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে হবে। গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ ধরে থেমে গেলে হবে না। রাঘব-বোয়াল ধরতে হবে, শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতেই হবে।

সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা আরও বলেন, এত দুর্নীতির ফলে টাকা ছাড়া এখন আর চাকরি হয় না। মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না, দেশে বেকার বেড়েছে। যার ফলে তরুণদের মধ্যে অপরাধও বাড়ছে, মাদার বখশের মতো নেতা থাকলে দেশের চেহারা পাল্টে যেত।

রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলার পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য বিশিষ্ট কলামিস্ট মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত কুমার সাহা। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য গোলাম সারওয়ার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম রাজশাহী মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী বরজাহান, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ সহ-সভাপতি ও জাতীয় পার্টি মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন মিন্টু, রাজশাহী বারের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সিরাজী শওকত সালেহিন এলেন।

এরআগে সকাল ১০টায় প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, সকাল সাড়ে ১০টায় প্রয়াত নেতার কবর জিয়ারত, বেলা ১১টায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, দুপুরে দু:স্থ মানুষদের মাঝে উন্নত খাবার বিতরণ, বাদ আসর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়