জনবল সংকটের অভাবে পিয়ন করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজ

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার কাজ করেন ফিসারম্যান, পিয়ন করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজ। আর অফিস সহকারি দিনে হিসাব রক্ষনের দায়িত্বে থাকলেও রাতে হয়ে যান গার্ড। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে লক্ষীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের উৎপাদন। মঞ্জুরিকৃত ৮২টি পদের বিপরীতে মাত্র এক চতুর্থাংশ লোকবল দিয়ে চালানোর কারণে রেণু আর পোনার উৎপাদন ও গুনগত মান নষ্ট হচ্ছে দেশের বৃহত্তম এই সরকারি হ্যাচারিতে।

জানা যায়, ১৯৮২ সালে ছোটবড় ৭৫ টি পুকুর নিয়ে রেণু আর পোনার উৎপাদন শুরু হয়। শুরুর দিকে ভাল উৎপাদনের কারণে এই কেন্দ্রের রেণু-পোনার চাহিদা ছিল দেশজুড়ে। কিন্তু জনবল সংকটে গত পাঁচ বছরে মুখ থুবড়ে পড়েছে এই হ্যাচারির কর্মকান্ড। উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মৎস্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজার, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাসহ এখানে ৮২ পদে লোকজন থাকার কথা। কিন্তু আছে মোটে ১৮জন।

অফিস সুত্রে জানা যায়, লোকবলের অভাবে সংস্কার নেই পুকুরের। এ কারণে মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ে পানিশূণ্য থাকে বহু পুকুর, পাড়ও ভেঙ্গে গেছে অনেকগুলোর। এরই মধ্যে ব্যবহার অনুপোযোগী ত্রিশটি। অপরদিকে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা না থাকায় গুণগত মান দেখতে হয় হ্যাচারির গার্ড ও ফিসারম্যানকে। ফলে কমেছে উৎপাদন, গুনগত মান ধরে রাখা যাচ্ছে না রেণুর।
এখন বছরে দুই হাজার কেজি পোনা উৎপাদন হচ্ছে এই হ্যাচারিতে। অথচ প্রয়োজনীয় লোকবল দিলে উৎপাদন হয়ে যাবে দ্বিগুন, বলছেন কর্মকর্তারা।

হ্যাচারির উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার জানান, দক্ষফিসারম্যান ছাড়া মাছের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। রেনু পেনার চাহিদা থাকলেও জনবলের অভাবে পর্যাপ্ত রেনু পোনা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অর্জিত হচ্ছেনা লক্ষ্যমাত্রাও ।

ভালো পোনার কথা উঠলে এই হ্যাচারির নামডাক এখনো। তাই শূণ্যপদে লোকবল নিয়োগ দিয়ে মাছের প্রজনন কেন্দ্রটি পুরোদমে চালুর দাবি এলাকাবাসীর।