জাতীয় শোক দিবস এবং গ্রেনেড হামলা প্রসংঙ্গে দাদনচকে আলচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত

রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান : মঙ্গলবার ২৭শে আগষ্ট ২০১৯ইং বিকেল ৩ ঘটিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের দাদনচক এইচ এম উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা প্রসংগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানটি নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর যুগ্ম-আহ্বায়ক, হাবিবুর রহমান চৌধুরী মজনুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর আহ্বায়ক আবু আহমেদ নজমুল কবির মুক্তার। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, শ্রমিকলীগ নেতা ও বীর-মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডা: তোহিদুল ইসলাম (পলাশ) এবং শ্রমিকলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন: আবু আহমেদ নজমুল কবির মুক্তা আহবায়ক নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, মো: আতিকুল ইসলাম টুটুল খান সভাপতি শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামিলীগ, দুরুল হোদা সভাপতি উজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ, তোসিকুল ইসলাম টিসু সেক্রেটারি শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ, আসিফ আহমেদ সৌরভ সেক্রেটারি শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামী যুবলীগ, রিজভী আলম রানা সভাপতি শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ, আসিফ আহসান সেক্রেটারি শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ আবু আহমেদ নাইমুল কবির (রাসেল) সভাপতি আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ, মেহেদী হাসান হিমেল সভাপতি শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগ, এম ইমরান হোসেন সভাপতি মনাকষা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শোকাবহ ১৫ আগস্ট, ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সদস্য। জাতীয় শোক দিবস , দিবসটিতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও শোকের দিন ১৫ আগস্ট।

প্রতি বছর দিনটি আসে বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে। পুরো জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে পালন করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
১৫ আগস্ট নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের, কর্নেল জামিল, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে।
এ হামলা থেকে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এ সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করেন শেখ হাসিনা। সেখানে বড় বোনের সঙ্গে শেখ রেহানাও ছিলেন।
সেদিন ভোরে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলা চালায় ঘাতকরা। এ নারকীয় হামলার পর দেখা গেছে, ভবনের প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁজরা হয়ে গেছে।
চারপাশে রক্তের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে আছেন চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ। তার তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁজরা। পাশেই পড়ে ছিল তার ভাঙা চশমা ও অতি প্রিয় তামাকের পাইপ। এভাবেই নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম, একটি ইতিহাস। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জের মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
ছাত্র অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয় দফার প্রণেতাও ছিলেন তিনি। ’৭০-এর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন। পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলে ষাটের দশক থেকে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়কে পরিণত হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বজ দৃপ্ত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

এ ঘোষণায় উদ্দীপ্ত উজ্জীবিত বাঙালি জাতি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এ স্বাধীন বাংলাদেশ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানটিকে আরো প্রাণবন্ত করতে সহযোগিতায় ছিলেন যথাক্রমে, মোজাম্মেল হক, মসিউর রহমান সুমন (সাবেক ছাত্রনেতা), মোনুয়ার হোসেন, মেসবাউল হক মেসবা, মেহেদী হাসান মালেক, মিজানুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, আশিক আহমেদ, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।