জায়গা সংকুলানের অভাবে দীর্ঘদিন যাবত অবহেলায় পড়ে রয়েছে রাজশাহীর পুঠিয়া থানার কেন্দ্রীয় কবরস্থানটি

রুহুল আমীন খন্দকার: বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়া দীর্ঘদিন থেকে জায়গা সংকুলানের অভাবের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে পুঠিয়া থানা কেন্দ্রীয় কবরস্থানটি। পুঠিয়া সদরের সর্বসাধারণের এ কবরস্থানটি বর্তমানে পুঠিয়া পৌরসভা ও পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র শেষ ঠিকানা।


এখানে পুঠিয়া পৌরসভার কৃষ্ণপুর ৪-নং ওয়ার্ড, কাঁঠালবাড়িয়া ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড, ৫-নং পুঠিয়া ওয়ার্ড, ৬ নং বারইপাড়া ও রামজীবনপুর এবং পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের কন্দ্রা ওয়ার্ডের ৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাদের মৃতদেহ কবরস্থ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার মানুষেরা কেন্দ্রীয় কবরস্থান হিসেবে তাদেরকে কবরস্থ করার ওসিয়ত করে যান। তাদেরকেও এখানে কবরস্থ করা হয়।


এতগুলো মানুষের একটি আদর্শ গোরস্থান হিসেবে যে জায়গা থাকা দরকার পুঠিয়া থানা কোন্দ্রীয় কবরস্থানে তা নেই বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। বর্তমানে যে জায়গাটি কবরস্থান হিসেবে মৃতদেহ কবরস্থ করা হয় তার পূর্ব পাশে ক্যালেন প্রাবহমান রয়েছে। যে কারণে কেন্দ্রীয় কবরস্থানের গেটটি ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে রয়েছে। সরকারী প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যানেলটিতে বক্স কালভাট দিয়ে তার উপর মাটি ভরাট করলে মৃতদেহ করব দেওয়ার জায়গা বৃদ্ধি পাবে এবং গোরস্থানের গেটটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে। এছাড়াও কবরস্থানের বড় একটি অংশে বাঁশঝাড়ে পরিপূর্ণ থাকার ফলে অনেক জায়গা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছেনা। 


কবরস্থানের মৃতদেহ কবর দেওয়ার জায়গা শেষ হলে একটি কবরের উপর আর একটি কবর দিতে হলে কমপক্ষে ৬ বছর সময় প্রয়োজন হয়। কবরস্থানে জায়গা সংকুলানের অভাবে ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কররের উপর করব দিতে গিয়ে মৃতদেহের মাথার খুলি, হাড়গোড় বের হয়ে আসে বলে জানিয়েছেন কবর খননকারীরা। এতে বিগত করবর বাসীদের পরিবার পরিজন ও আত্নিয় স্বজনদের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও মনকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিম দিকে সুউচ্চ স্থায়ী সিমানা প্রাচীর দেওয়ায় কবরস্থানের স্থান বর্ধিত করণের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম দিকের সীমানা প্রাচীর অপসারণ করে তার পিছনের ফাঁকা জমি ক্রয়ের মাধ্যমে গোরস্থানের জায়গা বৃদ্ধির দাবি এলাকাবাসীর।


এছাড়াও কবরস্থানের পূর্ব পাশের আদী জায়গাটি বর্তমানের পতিত হয়ে পড়ে আছে। জায়গাটি কবরস্থানের নামে ওয়াকফা না হওয়ায় বর্তমানে সেখানে কবর দেওয়া বন্ধ রয়েছে। মসজিদ কমিটি কবরস্থানের নামে ওয়াকফ করে দিলে পতিত জায়গাটি কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়াও অপ্রায়োজনীয় বাঁশঝাড় সমুহ অপসারণ এবং সেখানে মাটি ফেলে কবরস্থানের জায়গা বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে এলাকার অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।


এব্যাপারে গোরস্থান কমিটির সভাপতি পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হাসমত আলী বলেন, আমরা গোরস্থানের সমস্যাগুলি নিয়ে এর আগে বসার সময় নির্দ্ধারন করার পর করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় বসা সম্ভব হয়নি। গোরস্থানের সমস্যা গুলি নিয়ে বসে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। এছাড়াও তিনি কবরস্থানের সমস্যাগুলি সমাধানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।