জেলাপ্রশাসক পৌঁছে দিল প্রধানমন্ত্রীর উপহার

মোঃ আসাদুজ্জামান. বরগুনা প্রতিনিধি: যাত্রা শিল্পীদের খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে সেই সত্তর আর আশির দশকই ছিল তার সুদিন। এরপর আকাশ সংস্কৃতির দৌড়াত্মে এক সময় পরাজিত হলো ঐতিহ্যের যাত্রাপালা।

সেই থেকে আজ অবধি আশা-নিারাশা আর হতাশার দোলাচলে কাটছে তার জীবন। বরগুনার মো. আব্দুস ছোবাহান (৬৫)। টানা ৪৫ বছর কেটে গেছে যার যাত্রাভিনয়ে।

শুধু আ. ছোবাহানই নয়, তাঁর মতো আরো অনেক যাত্রাশিল্পীর যখন এমন দুর্দিন চলছে ঠিক তখনই হানা দেয় ভয়াল করোনা। যাত্রাপালাতো আগেই নেই। এই সময়ে এখানে সেখানে একটু কাজ করেও যে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত যোগাড়েরও কোনো সুযোগ নেই।

তাদের অসহায়ত্ব এখন চরমে। ঠিক এমনই দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্যদ্রব্যের উপহার সামগ্রী নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ালেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। বরগুনার প্রায় অর্ধ শতাধিক যাত্রাশিল্পীদের মাঝে আজ বুধবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, যাত্রা শিল্পীদের এই দুর্দিনে তাদের পাশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী পৌঁছাতে পেরে ভালো লাগছে। তিনি আরো বলেন, শুধু যাত্রা শিল্পী নন, তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া সম্পদায়, বেদে সম্প্রদায়, মুচি, নরসুন্দর, সড়ক ও নৌ-শ্রমিক, স্বর্নের কারিগর, রিকশা ও ভ্যানচালক, দিনমজুর, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষদের তালিকা করে তাদের ঘরে আমরা খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই তা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ আরো জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯০০ জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল এবং ৫৪ হাজার দরিদ্র পরিবারকে ভিজিডি চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত তালিকার বাইরে কর্মহীন শ্রমজীবী অসহায় পরিবারের মাঝে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, তেল এবং সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে।

দেশের এই ক্রান্তিকালে কর্মহীন দরিদ্র পরিবারের সহযোগিতায় নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয় স্বচ্ছল ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি