ঠাকুরগাঁয়ে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে শতাধিক একর জমির ধান ধ্বংস!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ বিআরবি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে কমপক্ষে ২’শ জন কৃষকের ১’শ একর জমির ইরি-বোরো ধান ধ্বংস করেছে। এমন ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও  জেলার রাণীশংকৈল  উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বনগাঁও মৌজার সোনা কান্দর মাঠে।


সরেজমিনে গিয়ে ধানক্ষেতে দেখা যায়, বিআরবি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ধান গুলি ঝলসে গেছে। এ সময় কৃষকরা বলেন তাদের একমাত্র মুখের খাবার কেড়ে নিল ঘাতক বিআরবি ইটভাটা। ইটভাটা সংলগ্ন পাকা রাস্তার দক্ষিনে প্রায় ১’শ একর জমির ধান, ভূট্টা, আম বাগানের আম এবং পটল ক্ষেত প্রায় ধবংসের পথে। বললেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লুৎফর, হাসিরুল, সুমন, বাচ্চু শেখ, হালিম, জবি, লালজান বাদশা,। মজিবর, বাবুল, সুলতান।

তারা বলেন তাদের এতবড় ক্ষতিপূরণ কিভাবে হবে। অনেকে এনজিও সংস্থা থেকে লোন করেছে, সার কৃটনাষক দোকানে অনেক টাকা বাকী রয়েছে, কেউ আবার সুদের উপর টাকা নিয়ে ধান আবাদ করেছে। কিভাবে তাদের এত দেনা পরিশোধ করবে ? এনিয়ে তারা বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি। 


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহারিয়ার আজম মুন্না, নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকারনাইন কবির স্টিভ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রীতম সাহা, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয়দেব নাথ। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর ইউএনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কৃষিঅধিদপ্তরকে। এপ্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় দেব নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এপ্রতিনিধিকে বলেন ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তিনি বলেন কৃষি অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়ায় বিআরবি ইটভাটার মালিক প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পের মত ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন,ভাটার  বিষাক্ত গ্যাসে ৫৪ জন কৃষকের প্রায় ৭০-৮০ বিঘা জমির ধান ঝলসে গেছে। কিছু জমির ধান শতভাগ এবং অন্যান্য জমিগুলোতে ৭০-৮০ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক ড. একেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এনিয়ে ভাটার মালিক আহম্মদ হোসেন বিপ্লব’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধানগুলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ভাটার গ্যাসে ক্ষতিহলে ভাটার  চার পাশে ফসলের ক্ষতি হতো। অথচ মাঠের এক অংশের কৃষক দাবি করেছে তাদের ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন বিষয়টি কৃষি অফিস তদন্ত করছে। কৃষি কর্মকর্তা যা ভাল মনে করেন তাই হবে।