ডেঙ্গু জ্বর লক্ষণ ও করণীয়-ডাঃ আঃ সামাদ চৌধুরী


জে.ইতি হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ এখন ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম। আতষ্কিত না হয়ে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে হবে সঠিক স্বাস্থ্যজ্ঞান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে।
ড়েঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও করণীয় কী?
এ বিষয়ে আলোচনা করেন, আমাদের হরিপুর প্রতিনিধি, মোঃ জসীমউদ্দীন ইতি এবং ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী। তিনি হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউ এইচ এফ পি ও) কর্মরত আছেন।

ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশে সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বরকে বলা হয় ডেঙ্গু সময়। বর্ষাকালে এ মশা ডিম পারে। এটি হলো ডেঙ্গুর প্রজনন মৌসুম। ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। ফিমেল ইজিপ্টি মশাকে বলা হয় ডেঙ্গু জ্বরের বাহক। মশার বংশবিস্তারকে প্রতিরোধ করতে না পারলে জ্বর প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
ডেঙ্গু জ্বর একাটি ভাইরাস বাহিত রোগ জানিয়ে ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, ‘এ জ্বরের সেরিওটাইপ হলো চারটি। সেরিওটাইপের চরিত্রের পরির্বতন হওয়ার কারণে ডেঙ্গুর যে ক্লাসিক্যাল লক্ষণ রয়েছে, সেগুলোর প্রকাশ ছাড়াই জ্বর দেখা দিচ্ছা। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। তবে অন্যান্য ভাইরাস জ্বরে ঠান্ডা-কাশি থাকে। তবে সাধারণত এ জ্বরে এগুলো থাকে না। আর জ্বরটি একটু বেশি হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে জানিয়ে ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে প্রচুর তরল খাবার খেতে পারেন। জ্বর হলে প্রচন্ড মাথাব্যথা হয়, চোখব্যথা হয়, মেরুদন্ড ব্যথা হয়। জটিলতা দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। র‌্যাশ দেখা না দিলে, মাড়ি দিয়ে রক্ত না গেলে , প্রচ- ব্যথা না থাকলে আতষ্কিত না হয়ে, প্যারাসিটাসল খান। বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খান। ডেঙ্গুতে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। পানিশূন্যতা দেখা দিলে কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকি বেড়ে যায় জানিয়ে ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘সুতরাং কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে হলে প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার খাবেন। বাসায় বানানো লেবুর শরবত, যেকোনো দেশি ফলের রস খেতে পারেন। প্রয়োজনে ওরস্যালাইন খেতে পারেন। প্রয়োজনে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীরটা মুছে দিতে পারেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু মশা দিনের বেলা বেশি কামড়ায়। তাই লম্বা জামা পরবেন, হাফহাতা জামা পরবেন না। বাসায় হাফপ্যান্ট পরে ঘুরাঘুড়ি করবেন না। ফুল প্যান্ট পরুন আর বাচ্চরা যেহেতু এর ঝুঁকিতে বেশি থাকে,তাই বাচ্চাদের দিনের বেলায় মশারির ভেতরে গুমানোর চেষ্টা করাবেন। বাচ্চাদের অবশ্যই বলবেন লম্বা জমা পরার জন্য। নিজেও পরবেন। পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গু মশা জন্মায়। তাই সাত দিনে পর পর ফ্রিজের নিচের,এসির নিচের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন। ফুলের টব থাকলে সেখানে যেন ময়লা পানি না জমে সেটি খেয়াল করবেন। আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন। আপনি হয়তো পরিচ্ছন্ন থাকলেন; কিন্ত আপনার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার নয়, তাহলে চলবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আসলে কমিউনিটি অ্যাফোর্ট দরকার । শুধু নিজে সুস্থ থাকলে চলবে না,সামাজিক দায়বদ্ধতা,দেশপ্রেম দরকার!
কখন ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা করতে যাবেন? ‘এ বিষয়টি জানা খুব জরুরি বলে তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের জন্য যদি মাড়িতে রক্তক্ষরণ হয়,শ্বাসকষ্ট হয়, হাত-পায়ে পানি চলে আসে, পেটে পানি চলে আসে,রক্তপাত বন্ধ হয় না ,অথবা শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়, র‌্যাশের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে দেরি না করে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নীরিক্ষ করাবেন। ডেঙ্গু সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে জটিলাতা দেখা দিলে, সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে বলে পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

হরিপুর, রাণীশনকৈল উপজেলায় ডেঙ্গুর রুগি কেমন দেখা দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হরিপুর, রাণীশনংকৈল উপজেলায় ডেঙ্গুর রুগি এই পর্যন্ত দেখা দেয়নি তবে ঢাকা থেকে কিছু রুগি রয়েছে তাদেরকে আমরা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে।