তাড়াইল নগরকুল সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাহাড়সম দূর্নীতির অভিযোগ

রুহুল আমিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা দামিহা ইউনিয়নের নগরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গত ১১ নভেম্বর বিদ্যালয়ের সভাপতি ফজলুর রহমান লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো.হামিদুর রহমান প্রায় দেড় বছর আগে নগরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ সময়ের মাঝে তিন দিনের অধিক বিদ্যালয়ে আসে নাই। অথচ শিক্ষক হাজিরা খাতায় প্রতিদিন স্বাক্ষর দিয়ে আসছেন। বিদ্যালয় উন্নয়ন কাজের জন্য গত বছর ৬৫ হাজার টাকা এবং বাথরুম মেরামতের জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। উক্ত দুটি প্রকল্পে কোনো কাজই তিনি করেন নাই।

আরো জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের এসব অনিয়মের বিষয়াদি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর পর সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান গত ৬ আগষ্ট পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা দেখতে পান। তিনি প্রধান শিক্ষককে এক সপ্তাহের মাঝে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য পরিদর্শন খাতায় উল্লেখ করেন। কিন্তু আজও তিনি কোনো কাজ করেন নাই।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থ বছরে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ অকেজো অবস্থায় পরে রয়েছে। বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাসিক বেতন উত্তোলন করেন। এসব বিষয়াদি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর পরও কোনো আইনি ব্যবস্হা নিচ্ছেন না।

উপজেলা নগরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ফজলুর রহমানের কাছে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অভিযোগে যে সব বিষয়াদি উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি বিষয় দিবালোকের ন্যায় সত্য।

প্রধান শিক্ষক মো.হামিদুর রহমানের কাছে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সভাপতির আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তার মুটোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ে যাওয়া হলে সেখানেও তাকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা অসুস্থ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।