তাড়াইলে ভাসমান দোকানগুলোতে শীতবস্ত্র বেচাকনার ধুুম

রুহুল আমিন,তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন বাজারের রাস্তার পাশে ফুটপাতে গড়ে উঠা ভাসমান দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা শীতবস্ত্র কিনতে ভীড় জমাচ্ছে।

এবার শীতে নিজেকে একটু উষ্ণ রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা ভাসমান দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে। বিক্রেতারা বিভিন্ন আয়ের মানুষের শীতের কাপড়ের চাহিদা মেটাতে উপজেলার প্রতিটি বাজার ও জনবহুল স্থানে বসেছে গরম কাপড়ের ভাসমান দোকান। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদর বাজারসহ সাত ইউনিয়নের প্রতিটি বাজারের বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। এসব দোকানগুলোতে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী পণ্য পেয়ে খুশি ক্রেতারা।

অন্যদিকে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভেও হাঁসি ফুটছে বিক্রেতাদের মুখে। নতুন কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় পুরনো কাপড়ের দোকানের দিকে ক্রেতারা ঝুঁকে পড়ছেন। ফুটপাত বা উন্মুক্ত ভ্যানে রাখা শীত পোশাকের দোকানগুলোতে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে প্রায় মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা প্রতিনিয়ত ভীড় করছেন। ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণে হরেক রকম বাহারি পোশাকের পসরা সাঁজিয়ে বসেছেন ফুটপাতের দোকানিরা। এখানের দোকানগুলোতে পুরনো সব রকমের পোশাকের কদর বেশি। পুরনো এসব পোশাক যথেষ্ট সস্তা এবং বেশ শীত নিবারণদায়ক বলে অনেকে বলছেন। আবার অনেক ফুটপাতের দোকানি নতুন পোশাকও বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, ফুটপাতের দোকানে ক্রেতাদের ভীড় বেশি। এসব দোকানে সোয়েটার, জ্যাকেট, কানটুপি, মাফলার, হাত-পায়ের মোজা ইত্যাদি পোশাকে সয়লাব হয়ে গেছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের পাশাপাশি কম্বলও বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক আর ক্রেতাদের ভীড়ে জম্পেশ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভ্যানে করে প্রায় ২৫-৩০ জনকে পুরাতন শীতবস্ত্র বিক্রি করতে দেখা যায়। দোকানিরা বলেন, শীতকাল চললেও শীতের পোশাক বিক্রয় খুবই সামান্য। মানুষ আসছে, ঘুরছে আর দেখছে, তবে কিনছে খুব কম। এসব দোকানিরা জানান, বিলাসবহুল দোকানে বিক্রি কম হলেও ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন বিক্রি বেশি। ফুটপাতের দোকানিরা বলেন, শীত আসার আগে মোটামুটি কম দামে ভালো পণ্য কেনার আশায় নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন এসব দোকানে আসছেন।

তারা জানান, পুরাতন সোয়েটার, জাম্পার, জ্যাকেটের মূল্য ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আর মার্কেটে নতুন সোয়েটার, জাম্পার ও জ্যাকেটের মূল্য ৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। 
আবদুল হালিম নামে এক বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন ১০-১৫টি জ্যাকেট বিক্রি করতে পারি। প্রতিটি জ্যাকেট ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করি। এখন কম চলছে। আর ১০-১৫ দিন পর শীত বেশি পড়বে। তখন অনেক পোশাক বিক্রি করা যাবে। খায়রুল নামে এক ক্রেতা বলেন, শীতের শুরুতে পোশাক কিনতে এসেছি।  শীতের তীব্রতা বাড়লে দামও বাড়বে। তাই আগেই কিনতে এসেছি।