তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়পুরে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে দু’পক্ষের সংঘর্ষে , আহত-১২

বিশেষ প্রতিনিধি  :লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফেসবুকে আ’লীগের দুই কর্মীর পাল্টাপাল্টি পোষ্ট-লেখা ও দেখে নেয়ার হুমকি’কে কেন্দ্র হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় রক্তাক্ত জখম ১২ নেতা-কর্মীকে উদ্ধার করে রায়পুর, লক্ষ্মীপুর সরকারি ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।।-ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজারে।

এঘটনায় থানার পুলিশ (রায়পুর, হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ি) ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন ও অবস্থানে রয়েছেন।  

হামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন, পান্নু মাঝি, সবুজ হাওলাদার, মাইনুদ্দিন আসামী, সোহাগ দেওয়ান, আব্দুল কাদের,রুহুল খলিফা, মুযাহিদ। জসিম, বাবু, সাহাবুদ্দিন আসামী, রাসেদ, ইমন, সিদ্দিক, জুলহাস, ইব্রাহিম, সোহেল ১০ নেতা-কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে আছেন। সরেজমিন গেলে শনিবার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ মাষ্টারকে কেন্দ্র করে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মকান্ড চলছিলো।-কয়েকবার সংঘর্ষ, ভাংচুর, আহত ও পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলা হয়েছে। মামলাগুলোও বর্তমানে চলমান।

এঅবস্থায় আ’লীগ নেতা ওসমান খাঁ ও আলাউদ্দিন খাঁ আলতাফ মাষ্টারের সাথে মিমাংসা হয়ে যান এবং মামলা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছিলো। কিন্তু-খালেদ দেওয়ান ও রুহুল আমিন খলিফার লোকদের সাথে বিরোধ রয়ে গেছে আলতাফ মাষ্টার লোকদের সাথে। এ অবস্থায় শুক্রবার সকালে রুহুল আমিন খলিফার অনুসারী এক কর্মী ‘খাসেরহাট স্বাধীন হয়েছে ও প্রয়োজনে আবার স্বাধীন হবে’ এ পোষ্ট তার ওয়ালে লেখার উত্তরে আ’লীগ নেতা আলতাফ মাষ্টারের ভাতিজা মোঃ আওলাদ ‘খাসের হাট কবে স্বাধীন হয়েছে’ জানতে চাই” এ পোষ্ট লেখেন। রাতে যুবলীগ কর্মী আওলাদ তাদের প্রতিপক্ষ আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন খলিফার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পথে তারা আওলাদকে সাইজ করার হুমকি দেয়। একথা শুনতে পেরে আলতাফ মাষ্টারের কাছে ফেরত গিয়ে আওলাদ অভিযোগ করেন।

কেন সাইজ করবে জানতে চাওয়ায় তা পরের দিন উত্তর দেওয়ার কথা বলে বিদায় করে দেয়ার ২০ মিনিট পরই রুহুল আমিন ও রাশেদ খলিফার নের্তৃত্বে ৭/৮ জন কর্মী আলতাফ মাষ্টারের কার্যালয়ের সামনে দেশীয় অস্র দিয়ে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় বাধা দেয়ায় আরো ১০ জন কর্মীকে পিটিয়ে আহত ও কার্যালয় ভাংচুর করে পালিয়ে যায়।

সাবেক ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা আবদুল মফিজ খাঁন জানান,সাবেক জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান মাষ্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার কে হত্যার জন্য এই হামলা চালিয়েছে পতিপক্ষরা।এঘটনায় রুহুল আমিন ও রাশেদ খলিফা জানান, শুক্রবার রাতে আ’লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে দলীয় সভা করছিলাম। এ সময় সবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ মাষ্টারের ভাতিজা আলাউদ্দিন মিথ্যা অজুহাতে ঝগড়া লাগিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে। আমাদের ৬ নেতা-কর্মী লক্ষ্মীপুর ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রায়পুর থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, রাতে সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের লোকদের শান্ত রাখতে এখনো পুলিশ অবস্থানে রাখা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।