দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আব্দুল মজিদ বাহিনীর তান্ডবে অতিষ্ঠ এলাকার নিরীহ মানুষ

সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি :দ ক্ষিণ সুনামগঞ্জ  উপজেলার পাথারিয়া  ইউনিয়নের পুরাতন জাহানপুর গ্রামে কুখ্যাত ডাকাত দলের সদস্য  আব্দুল মজিদ ও  তার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় পুরাতন জাহানপুর গ্রামের একজন সরল সহজ মানুষ গুরুত্ব আহত হয়েছেন।

তার নাম  আব্দুল হেকিম।
তিনি পুরাতন জাহানপুরের মৃত রমজান আলীর বড় পুত্র।

গুরুত্ব আহত আব্দুল হেকিমের  অবস্থা  খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার  দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়   আব্দুল মজিদ বাহিনীর  ৪ জনের নামউল্লেখ করে  আরো  অজ্ঞাত রেখে    দক্ষিণ  সুনামগঞ্জ  থানায় আহত আব্দুল হেকিমের ছোট ভাই
নজরুল  ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন। ,মামলা নং ১৬ ।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, আব্দুল মজিদ এলাকার একজন প্রভাবশালী বটে। সে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন করে তার লাটিয়াল বাহিনী অধিপত্ত বিস্তার করতে  মরিয়া উঠেছে। পান থেকে চুন খসলেই তার বাহিনী দিয়ে মানুষের জান মালের উপর হামলা।

বিভিন্ন  সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী কুখ্যাত ডাকাত দলের সদস্য মাদক সেবী  আব্দুল মজিদ ও তার লাটিয়াল বাহিনী  এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে আসছে। মাদক, জুয়া, ডাকাতি সহ সকল অপকর্মে ছিল তার অবস্থান। এলাকার সাধারণ মানুষ আব্দুল মজিদ ও তার লাটিয়াল বাহিনীর নাম শুনলেই শিতল হয়ে পড়েন। আব্দুল মজিদ ও তার লাটিয়াল বাহিনী একমাত্র আস্থানা ছিল এলাকার বিভিন্ন মুচির ঘর। মদ ও নারী নিয়ে প্রতিনিয়ত রাত কাটানো ছিল তাদের একমাত্র পেশা,। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ মুখ খুলেই সাথে মারপিট। এলাকার সরল সহজ আব্দুল হেকিম ও কুখ্যাত ডাকাত দলের সদস্য মাদক সেবী আব্দুল মজিদ একই এলাকায় বাস করার সুবাদে সামন্য কটুকথা নিয়ে কথা কাটা-কাটি হলে। আব্দুল মজিদ তার বাহিনী সফিক উল্লাহর ছেলে মঈনুল, রেজাউল, ও মতি মিয়ার ছেলে ইমামুর কে দিয়ে সরল সহজ আব্দুল হেকিমকে সাধারণ মানুষের সামনে নির্যাতন করে। আব্দুল হেকিম বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য সালিশ ব্যক্তিদের অবগত করলে আব্দুল মজিদ তাদেরকে বৃদ্বা আঙ্গুলী দেখিয়ে আব্দুল হেকিমকে বিভিন্ন হুমকি ধামকী দেন ।

পরে তিনি নিরুপায় হয়ে আব্দুল হেকিম  ঘরে বসে থাকেন,। এলাকার সালিস ব্যাক্তিদের জানানো অপরাধে  সরল সহজ মানুষ আব্দুল হেকিমের প্রতি আব্দুল মজিদ ও তার লাটিয়াল বাহিনী মঈনুল, রেজাউল, ও ইমামুর সহ কয়েকজন দিন দুপুরে পাথারিয়া বাজারে যাওয়ার পথে ধারালো রামদা, ছুরি, সুলফি দিয়ে প্রাণে মারার উদ্দেশ্য আব্দুল হেকিমের উপর অমানবিক আচরণ করেন।

আব্দুল হেকিমে তাদের আঘাত সইতে না পেরে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার সুর চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আব্দুল মজিদ ও  তার লাটিয়াল বাহিনী পালিয়ে যায়। স্থানীয় মানুষদের সহযোগিতায় আব্দুল হেকিমের আত্মীয় স্বজন তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা খুবই আশংকা জনক।

তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। নিরীহ আব্দুম হেকিমের প্রতি কুখ্যাত ডাকাত দলের সদস্য আব্দুল মজিদের এই অমানবিক নির্যাতন দেখে এলাকার সাধারণ মানুষজন তর-তর করে কাপছেন। আব্দুল মজিদ ও তার লাটিয়াল বাহিনীর কারণে এলাকায় যে কোনো  সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের কোন সংঘাত ।

মামলার বাদী নজরুল ইসলাম জানান, আমার ভাই একজন সরল সহজ মানুষ আব্দুল মজিদের সাথে  সামান্য কথা কাটা-কাটি করায় তার লাটিয়াল বাহিনী দ্বারা আমার ভাইকে প্রাণে মারার জন্য দিন-দুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমার ভাইয়ের অবস্থা  মোটেই ভালো নয়। মনে ভাই আর সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে আসবেন না। আমরা আব্দুল মজিদ বাহিনী গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি’র সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করে নি।
মামলা তদন্ত কারী অফিসার জহিরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের  করার পর আমরা একজন আসামীকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।