দক্ষিন আফ্রিকায় নৃশংস ভাবে ইব্রাহিম খুনের ঘটনায় ফরিদগঞ্জে ২ জন আটক

জাকির হোসেন সৈকত: ফরিদগঞ্জ: দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওনা টাকা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে  নৃশংস ভাবে খুন হওয়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ইব্রাহীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দুই আসামীকে বৃহষ্পতিবার(৬ আগস্ট)রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো: আ: ছাত্তার মিজি(৬৫) ও হাছার রাঢ়ী(৫৬)। পরে তাদেরকে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাকামাছ এলাকায় নৃশংস এই খুনের ঘটনা ঘটে। পরে ইব্রাহিমের পিতা গোলাপ নবী সর্দার বাদী হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা এই খুনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে।

আদালতে দায়েরকৃত মামলা ও নিহত ইব্রাহিমের পিতা গোলাপ নবী সর্দার জানান, তার ছেলে ইব্রাহিম অর্থ উপার্ঝনের আশায় ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। সেখানে কাকামাছ নামক স্থানে ব্যবসা করা অবস্থায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী ফরিদগঞ্জের কাছিয়াড়া গ্রামের রুবেল মিজি, তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, গজারিয়া গ্রামের টুটুল ও পুর্ব পোয়া গ্রামের হামিদ সাজুর সাথে পরিচয় সূত্রে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। সেই সর্ম্পকের সূত্র ধরে রুবেল মিজি ইব্রাহিমকে তার দোকান ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়।

পরে  টুটুল, হামিদ সাজুসহ অন্যরা দোকান ক্রয়ে ইব্রাহিমকে অনুুরোধ করে নির্ভয় দেয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে ইব্রাহিম  নিজ দেশে থাকা পিতা গোলাপ নবী সর্দার, তার ভাইদের সাথে আলোচনা করে। সেই অনুযায়ী ইব্রাহিমের পিতা ও ভাইরা রুবেলের পিতা আ: ছাত্তার মিজিসহ অন্যদের সাথে আলোচনা করে। পরে এক কোটি  বিশ লক্ষ টাকা দোকানের মূল্য ঠিক হয়। পরে ইব্রাহিম ওই টাকা রুবেলকে প্রদান করলেও সে দোকান হস্তান্তরে গরিমসি করে। এক পর্যায়ে ইব্রাহিম  দোকান ক্রয়ের টাকা ফেরত চায়। একই ভাবে দেশে তার পিতা ও ভাই রুবেল ও অন্যদের পরিবারের সাথে টাকা ফেরত দানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু টাকা ফেরত দেয়ার কোন কুল কিনারা না হওয়ার এক পর্যায়ে গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই টাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুবেল মিজি অন্যদের সহযোগিতায় ইব্রাহিমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় ইব্রাহিমকে দক্ষিণ আফ্রিকার ফরেনসিক প্যাথলজি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইব্রাহিমের লাশ দেশে আসে। পরে নিহত ইব্রাহিমের পিতা ফরিদগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাপ নবী সর্দার বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলাটি দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম বৃহষ্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে মামলার ৫নং আসামী আ: ছাত্তার মিজি ও ৮নং আসামী  হাছান রাঢ়ীকে আটক করে। পরে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে তাদের চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করে।


এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম জানান, মামলার দুই আসামীকে আটক করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক ও প্রবাসে রয়েছেন।