দেবীর বোধ‌নের মধ্য দি‌য়ে শুরু হ‌চ্ছে দুর্গা পূজা

অ‌ভি‌জিত রায়: মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার গোধূলি লগ্নে মন্দিরে মন্দিরে দেবীর বোধন হবে। আগামীকাল শুক্রবার ষষ্ঠী পূজা। মা দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটবে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে। এবার দেবীর আগমন-গমন (বিদায়) দুটিই ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে।

পূজা‌কে ঘি‌রে চাঁদপুর জেলার ২০৩ টি পূজা মন্ড‌পে প্রতীমা শিল্পী থে‌কে শুরু ক‌রে পূজীরা ব্যাস্ত সময় অ‌তিবাহ‌তি কর‌ছে। শেষ মুহু‌র্তের প্রস্তু‌তি ও‌ নিরপত্তার বিষয়‌টি দেখ‌তে পু‌লিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পি‌পিএম (বার) বি‌ভিন্ন উপ‌জেলার পূজা মন্ডপ প‌রিদর্শন ক‌রে‌ছেন।

চাঁদপুরের মন্দিরগুলোতে কড়া নজরদারিতে রেখেছে র‌্যাব-১১ টহল টিম। গতকাল র‌্যাব-১১ ডিএডি সৈয়দ শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম চাঁদপুর শহরের মন্দিরগুলো নজরদারিতে এনেছেন। তারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের মন্দিরগুলোতে মন্দিরগুলোতে পরিদর্শন করে আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি তদারকি করেন। তারা জানান, আমরা চাই চাঁদপুরের প্রতিটি পুজা মন্ডপে যেন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আমরা সকল মন্দিরকে নজরদারিতে আনার জন্য পুজার আয়োজকদেরকে পরামর্শ দিয়েছি।

এ বছর চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় ২শ ৩টি শারদীয় দুর্গা পূজার মন্ডপে দেবী দুর্গাকে বরণ করা হবে। এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে আগমন এবং ঘোটকে গমন করবেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা জানান দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩২টি পূজা মন্ডপে সকল আয়োজন শেষ হওয়ার পথে। বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কারিগরগণ দেবী দুর্গাকে তাদের তুলির আছড়ে সাজিয়ে তোলার শেষ কাজটুকু করে যাচ্ছেন।তারা দিবারাত্রী কাজ করে দুর্গা প্রতিমাকে নানান রঙে সজ্জিত করছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩২টি পুজা মন্ডপ শ্রী শ্রী কালি বাড়ি মন্দির, শ্রী শ্রী গোপাল জিউর আখড়া, গুহ বাড়ি পূজা মন্ডপ, মিনার্ভা পূজা উদ্যাপন পরিষদ, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম, কুন্ডু বাড়ি পূজা মন্ডপ, মজুমদার বাড়ি পূজা মন্ডপ, বাতাসা পট্টি বারোয়ারি পূজা মন্ডপ, নিতাইগঞ্জ পূজা মন্ডপ, শিলন্দিয়া শ্রী শ্রী হরিসভা পূজা মন্ডপ, পুরাণবাজার ঘোষপাড়া পূজা মন্ডপ, জাফরাবাদ পালপাড়া পূজা মন্ডপ, নিতাইগঞ্জ রঞ্জিত দাসের বাড়ি পূজা মন্ডপ, সার্বজনীন পূজা মন্ডপ শীতলা মায়ের মন্দির, ঘোষপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্ডপ, দাসপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্ডপ, হরিজন পল্লী সার্বজনীন পূজা কমিটি, মহামায়া দত্ত বাড়ি পূজা মন্ডপ, মৈশাল বাড়ি সার্বজনীন পূজা মন্ডপ, শিলন্দিয়া শ্রী শ্রী শারদীয় পূজা মন্ডপ, শ্রী শ্রী শারদীয়া পূজা মন্ডপ, দামোদরদী কমল কৃষ্ণ মহাশয়ের বাড়ি, প্রতাপসাহার বাড়ি শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গা পূজা মন্ডপ, উত্তর চরবাকিলা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা পূজা মন্ডপ, বাবুরহাট বাজার পূজা মন্ডপ, স্বর্ণখোলা মা সন্তুষ্টি পূজা মন্ডপ, রেলওয়ে হরিজন কলোনী মহাবীর মন্দির দূর্গা পূজা কমিটি, ডাসাদী বড় সূত্রধর বাড়ি সার্বজনীন দূর্গোৎসব, পুরাণবাজার পানের গোলা সার্বজনীন শারদীয় দূর্গা পূজা, দাসদী সার্বজনীন দূর্গা পূজা উদ্যাপন পরিষদ, নবতারা সার্বজনীন পূজা মন্ডপ, বালিয়া রাধা গোবিন্দ মন্দির সার্বজনীন দূর্গা উৎসব, প্রতাপ সাহা রোড মদন মোহন রায়ের বাড়ি দূর্গা উৎসব।

এছাড়া শাহরাস্তি উপজেলার ১৭টি পূজা মন্ডপ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা ১৯টি পূজা মন্ডপ। হাজীগঞ্জ উপজেলার ২৭টি পূজা মন্ডপ। হাইমচর উপজেলার ৫টি পূজা মন্ডপ। মতলব উত্তর উপজেলার ২৯টি পূজা মন্ডপ। মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩৩টি পূজা মন্ডপ। কচুয়া উপজেলার ৪১টি পূজা মন্ডপ সহ ২০৩টি সকল প্রস্তুতি সমাপ্তির পথে।

শাস্ত্র মতে, দেবীর ঘোটকে আগমন ও গমনের ফল শুভ নয়। এতে অমঙ্গল অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই দুর্গাপূজা। ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয় যেমন বাধাবিঘ ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা, এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা।

শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন দুঃখের দ্বারা যাঁকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাঁকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।