ধর্মগ্রন্থ অবমাননা সব ধর্মে নিন্দনীয়: সাংবাদিক মোঃ কবির হোসেন

ডেস্ক রিপোর্ট || স্বাধীন বাংলাদেশে এসব চিত্র দেখতে হবে আর কত দিন? ৩০ লক্ষ মহান শহীদ ও জাতির জনকের পরিবারের শহীদ হওয়ার মধ্যে দিয়ে আমরা উপহার পেয়েছি এই সোনার বাংলা নামক দেশটি, পেয়েছি লাল সবুজের রঙে আবৃত পতাকা, বিশ্বের দরবারে এই পতাকা আমাদের দেশের পরিচিত বহন করে। বাংলাদেশ নামক একটি দেশ ভূমন্ডলে আছে এটা পৃথিবীতে সকল জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ জানতে পেরেছে‌। আমাদের দেশের জাতীয় মুদ্রাস্ফিতির হার তথা গড় মাথাপিছু আয়ের হার বেড়েছে। বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল স্বর্ণ যুগে পদার্পণ করেছে, গেলো কিছু দিন আগে আমরা স্বাধীনতার সূবর্ণ রজতজয়ন্তী পালন করেছি। আমাদের বাংলার দামাল ছেলেরা আজ বিশ্ব ক্রিকেটে নেতৃত্ব বহন, ট্রপি জয় করা সহ নিজেদের শক্তির জানান দিতে সক্ষম হয়েছে আমরাও পারি। বাংলাদেশকে আজ অনেক দেশ নিজেদের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সারিতে। আমাদের অর্জন অনেক কিছু লেখতে গেলে অনেক সময়ের দরকার। এতকিছুর পরও কেন আজ আমরা সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে ও চলতে পারিনা।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যেঃ মুসলিম – ৮৬.৬%, হিন্দু – ১২.১%, বৌদ্ধ – ০.৬%, খ্রিস্টান – ০.৪% এবং অন্যান্য – ০.৩%. (তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)।

পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থই নিজ নিজ অনুসারীদের কাছে অতি মর্যাদা ও সম্মানের বস্তু। তাই ধর্মগ্রন্থ অবমাননা সব ধর্মে নিন্দনীয় কাজ। মহাগ্রন্থ আল কোরআন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পঠিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। ইসলাম ধর্মে কোরআন অবমাননা ও অমর্যাদা মারাত্মক অপরাধ ও চরম সীমা লঙ্ঘন। জাগতিক শাস্তির পাশাপাশি এর চূড়ান্ত পরিণতি জাহান্নাম।

পবিত্র কোরআন আল্লাহ তাআলার চিরসত্য বাণী। সুতরাং যারাই কোরআন অবমাননায় অংশ নিয়েছে বা নেবে তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে চরম দুর্ভোগ ও ভয়াবহ শাস্তি । ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী মহাপাপীর, যে আল্লাহর আয়াতের আবৃত্তি শোনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে (নিজ মতবাদে) অটল থাকে। যেন সে তা শোনেইনি। সুতরাং ওকে মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৭-৮)

একবার সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) তাঁর ছাত্রদের বলেন, ‘জেনে রাখো, কোরআন (অনুসারীর পক্ষে ও অবমাননাকারীদের বিপক্ষে) এমন সুপারিশকারী, যার সুপারিশ কবুল করা হবে। অতএব যে কোরআনের অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে। আর যে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (ফাজায়েলে কোরআন)।


যারা পবিত্র কোরআনকে সম্মান করবে, আঁকড়ে ধরবে, মহান আল্লাহ তাদের দুনিয়া-আখিরাতে সম্মানিত করবেন। বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, কোরআন আল্লাহর বাণী। তাই যথাসম্ভব তা শিক্ষা করো এবং তার দ্বারা উপকৃত হও। নিঃসন্দেহে কোরআন হলো আল্লাহর রজ্জু (অর্থাৎ তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সুদৃঢ় মাধ্যম), উজ্জ্বল আলো, (অন্তরের) রোগ-ব্যাধি নিরাময়কারী। যে তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তা তার জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে এবং তা আপন অনুসারীদের দেখাবে মুক্তির পথ। এতে কোনো বক্রতা নেই, যা সোজা করার প্রয়োজন আছে। কোরআনের রহস্য কখনো শেষ হবে না। আর তা কখনো পুরনোও হবে না। তাই এমন মহান গ্রন্থ অধিকহারে তিলাওয়াত করো। কারণ এর তিলাওয়াতের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি অক্ষরে ১০টি করে নেকি দান করবেন। (সুনানে দারেমি, হাদিস: ৩৩৫৮)

মহান আল্লাহ আমাদের কোরআনের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন।।