পাঠ্যবইয়ে আসছে চাঁদপুরের সাহসী নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ বদরুন নাহার চৌধুরী!

মো.মাহফুজুর রহমান: ময়মনসিংহের সন্তান হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে চাঁদপুরের মানুষের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গী ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী৷ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ১১টি অঞ্চলে নৌকায় করে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন সাহসী এই নারী।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত একজন চিকিৎসক ও সমাজ হিতৈষী। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সেবায় অনন্য অবদানের জন্য ২০১২ সালে তাকে বাংলাদেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসেবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয়।

স্বাধীনতার এতো বছর পরে নতুন ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের একেবারে বাস্তব ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে এবার জাতীয় মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠ্যক্রম বইয়ে সংযোজন করার উদ্যেগ নিয়েছে সরকার। তাই দেশের বিশিষ্ট সব মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে ভিডিওসহ সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তন্মোধ্যে বিশেষভাবে রয়েছেন চাঁদপুরের বিশিষ্ট নারী চিকিৎসক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী।ইতিমধ্যেই নির্ধারিত একদল শিক্ষার্থীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত এমন সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন তিনি।

গত বুধবার হাজীগঞ্জের ধেররাস্থ চৌধুরী বাড়িতে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে চাঁদপুর সরকারি মাতৃপীঠ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানহা চৌধুরী, আশরাফি বিনতে হাই, লাবিবা ইউসুফ, লামিয়া ইউসুফ ও ইশরাত জাহান অরিন।

উল্ল্যেখ্য, ডাঃ বদরুন নাহার চৌধুরী চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও পৌর এলাকার ধেররা চৌধুরী বাড়ির সন্তান মুক্তিযোদ্ধা মরহুম তাফাজ্জল হায়দার নসু চৌধুরীর সহধর্মিণী।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালে এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্রী থাকাকালীনই মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২০৪ সাব-সেক্টরের অধীনে জহিরুল হক পাঠানের নেতৃত্বাধীন মধুমতী কোম্পানিতে মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ১১টি অঞ্চলে নৌকায় করে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তিনি৷

এছাড়াও, মুক্তিযোদ্ধে আহত ও নির্যাতিতা নারীদের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছিলেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করেন মুক্তিকামী মহীয়সী এই নারী যোদ্ধা।