ফরিদগঞ্জের গুপ্টি বাজারের আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কারো কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছে না

আমান উল্যা আমান:- সম্প্রতি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি বাজারের ব্যবসায়ীদের দােকানঘরে লেলিহান আগুনের শিখা পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা কারো কাছ থেকে ন্যূনতম সহযোগিতা একটু সহানুভূতি পাচ্ছে না। শুধু এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতার আশ্বাসের বাণী শুনতে হচ্ছে।

রাজনীতি দলের নেতাসহ বিত্তবানদের কাছে কিছু কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অসহায় ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা পাওয়ার জন্য ভিতরগত ভাবে প্রতিনিয়ত স্থানীয় প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা চাচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গুপ্টি বাজারে আগুনে পুড়ে গেছে ১২টি দোকান। গত বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার গুপ্টি বাজারে আগুন লাগার এ ঘটনা ঘটেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, কোন একটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের অন্য দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে রড সিমেন্ট, টেইলারিং, ওষুধ, ডেকোরেটর, সেলুনসহ ১২টি দোকান পুড়ে গেছে।
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে একঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপরি নিয়ন্ত্রনে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত বনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী জানান, এখনো পর্যন্ত শুধু আশ্বাসের বাণী শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু কেউই সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে না। কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী ছাড়া ছোটখাটো দুই-একজন ব্যবসায়ী যারা এ দিক সে দিক থেকে ঋণ এনে ব্যবসা করতো তাদের প্রতিক্রিয়া বুঝা যায় আমাদেন ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ১২ টি দোকান প্রায় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।শুধুমাত্র প্রথম দিনে উপজেলা প্রশাসন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেম্বার ও থানা পুলিশের কর্মকর্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ফায়ারসার্ভিস স্টেশন না থাকায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিবেদককে বলেন,আমরা যারা বিভিন্নভাবে ব্যাংক-বীমা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করছি তারা ব্যবসা-বাণিজ্য এখন বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছি। তাই অন্যান্য বিত্তবান ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা না নিলেও আমাদের কয়েকজন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী প্রশাসনসহ বিত্তবানদের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কামনা করছি। তা না হলে ঋণের বোঝায় আমরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বো।

তাই আপনাদের মাধ্যমে আমাদের এই ১২টি দোকানের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও সহযোগিতা চাচ্ছি। এদিকে ফরিদগঞ্জের উপজেলার সর্বত্র ব্যবসায়ী মহলের দাবি অচিরেই আমাদের এই অঞ্চলে অথবা উপজেলা সদরে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হোক।