বন্দরে ডাকাতির মামলার সিআইডির জালে এবার মতলবের লাদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়নগঞ্জের বন্দর থানায় ডাকাতীর মামলায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার সুগন্ধী গ্রামের রিপন ওরফে লাদেন সরকার (৪০) কে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজার বাড়ি যাওয়ার পথে গােপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন খানের নেতৃত্বে সিআইডির একটি টিম ছেঙ্গারচর বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অন্তত ৪-৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

আটক লাদেন সরকার ওরফে রিপন সরকার (৪০) উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সুগন্ধী গ্রামের সুজাউদ্দিন সরকারের ছেলে।

জানা গেছে, কুখ্যাত ডাকাত উজ্জল মিঝির ভগ্নিভতি লাদেন। মুন্সীগঞ্জের কালিরচরে ডাকাতী ঘটনায় তার সম্পৃক্তায় তার বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জের বন্দর থানায়, ডাকাতী মামলা রয়েছে।মামলা নাম্বার- ৭ (১)২০।এছাড়া তার বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায়। মামলাসহ আরাে কয়েকটি গুরুতর অভিযােগ রয়েছে। বলে জানা গেছে।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত লাদেনকে ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে সে তার দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সে বিচারকের কাছে জানিয়েছেন, ডাকাতি জলদস্যুতা চাঁদাবাজি মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। সিআইডির ইন্সপেক্টর গাজী মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ৭ জানুয়ারি বন্দর থানার দায়ের করা একটি মামলা সিআইডিকে হস্তান্তর করা হয়। পরে এই মামলা তদন্তে নামে সিআইডি। তদন্তকালে মামলায় লাদেনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

তিনি আরো বলেন, লাদেনরা সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল। তারা ট্রলারযোগে নদীর উপকূলীয় এলাকায় বসতবাড়িতে ডাকাতি করে থাকে। অনুরূপভাবে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বন্দর উপজেলাতেও তাদের দল এক রাতে পাঁচ বাড়িতে ডাকাতি সংগঠিত করে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার চর ধলেশ্বরী গ্রামের জুনায়েদ মিয়ার বাড়িতে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। এ সময় ডাকাতরা বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জুনায়েদ, সিরাজুল আলম, আনোয়ার হোসেনের ঘর থেকে নগদ ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে মেঘনা নদী দিয়ে ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় শিশুসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়, তারা হলেন শিশু সাহেলা (১১), পিপন (৩২) ও নূর মোহাম্মদ (৫৫)।