বোরো আবাদে ব্যস্ত লক্ষ্মীপুরের কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের বেশিরভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে এখন বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। মাঘ মাসে কৃষকরা বোরো ধান আবাদ করে থাকেন। বীজতলা থেকে চারা তোলা, ক্ষেত তৈরি ও চারা রোপণে ভীষন ব্যস্ত তারা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কৃষক তাদের ক্ষেতে বোরো ধান রোপণে কাজ করে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বোরো ধান আবাদ করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, সঠিক সময়ে বোরো ধানের চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয়। চারা এলোমেলোভাবে না লাগিয়ে সারিবদ্ধভাবে লাগাতে হয়। সুষম সার ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা বাড়ে। সাধারণ ইউরিয়া সারের পরিবর্তে গুটি ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে অধিক কার্যকর ফল পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে ধানের আবাদ করায় অধিক ফলন পাবে কৃষক।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৯ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে বোরো (ইরি) ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হবে সবচেয়ে বেশি।

এ উপজেলায় বোরো চাষে ১২ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। রামগঞ্জে আট হাজার ২০০, রায়পুরে সাত হাজার ৭৮০, কমলনগরে ৩৫০ ও রামগতিতে ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হবে। জেলার বেশিরভাগ স্থানে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আবাদের জন্য জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

সরজমিনে বুধবার উপজেলার উদমারা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষকের বোরো ধান লাগানো প্রায় শেষ। আবার অনেকেই এখনো তাদের ক্ষেতে বোরো চারা লাগাচ্ছেন। মাইলের পর মাইল কৃষকের স্বপ্ন সবুজ বোরো ধানের চারায় ভরে গেছে। বাতাসের সাথে দোল খেয়ে বড় হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।

সদর উপজেলার চররুহিতা এলাকার কৃষক আজাদ উদ্দিন জানান, বংশগত ভাবে তারা কৃষি কাজ করছেন, প্রতি বছর জমিতে ধান চাষ করেন তারা। এই ভারও তারা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগ-বালাই না হলে এবার ভাল ফলনের আশা করছেন তারা।
ভবানীগঞ্জ এলাকার কৃষক হানিফ মিয়া, রমজান আলী ও এবাদত উল্যা বলেন, সার, কামলা ও পানিসহ সব কিছুরই দাম বেশি, খালি ধানের দাম কম। এতে আমাদের লোকসান হয়। কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় এ ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তারা। তবে বিগত কয়েক বছর থেকে সরকারি ভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে গুদামে ধান ক্রয় করায় খুশি তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, ধানের বীজতলা থেকে বোরো ধান রোপন করা পর্যন্ত এখনো কৃষকের কোন ক্ষতি হয়নি। উঁচু জমিতে এ ধান চাষ কারা ভালো। আমরা ধান রোপণের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করছে। পোকা দমনে অধিক পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করে চাষিরা।

এতে প্রকৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই আবাদকৃত জমিতে ‘পাচিং’ পদ্ধতি অবলম্বন করে পোকা-মাকড় দমনে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন খরচ কম পড়ে। বর্তমান কৃষকরা হাইব্রিড (উন্নত ফলনশীল) জাতের ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। আশা করি সামনের বছরগুলোতে রোরো ধানের উৎপাদন বাড়বে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সবসময় কাজ করছেন।